kalerkantho

মাদক মামলার ট্রাইব্যুনালের গেজেট না হওয়ায় হাইকোর্টের ক্ষোভ

১৩ অক্টোবরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক মামলার ট্রাইব্যুনালের গেজেট না হওয়ায় হাইকোর্টের ক্ষোভ

আইন হওয়ার আট মাস অতিবাহিত হবার পরও মাদকের মামলার বিচারের জন্য মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন এবং জেলা জজ বা দায়রা জজকে দায়িত্ব দিয়ে গেজেট প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। 

আদালত বলেছেন, এই গেজেট প্রকাশ না করায় জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে মাদকের গডফাদারদের সঙ্গে সচিব বা সরকারের একটি মহলের যোগসাজশ রয়েছে। আদালত বলেন, গেজেট না হওয়া দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। তবে রাষ্ট্রপক্ষকে আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে গেজেট প্রকাশের অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার এ আদেশ দেন ও উল্লেখিত মন্তব্য করেন। যদিও রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এই (গডফাদার সংক্রান্ত) ধারণা ঠিক না।

আদালত অগ্রগতি জানানোর তারিখ নির্ধারণ করে বলেন, আমলা এ সময়ের মধ্যে একটি ইতিবাচক সংবাদ পাবো বলে আশা করছি। 

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা পজিটিভ আছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে অগ্রগতি জানাবো।

আদালত বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে যে তারা কয়েক মাস আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সাড়া দিচ্ছে না।

রাজধানীর বংশালে মাদক মামলার এক আসামির মাসুদের জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকালে মাদক মামলার নতুন আইন নিয়ে গেজেট প্রকাশ না হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আল ফয়সাল সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। 

মামলার এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াবা ও হেরোইনসহ গতবছর ২৭ ডিসেম্বর মাসুদুল হক মাসুদ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে বংশাল থানায় করা মামলায় গত ২২ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপরই নিম্ন আদালতে জামিন চান আসামি। কিন্তু ওই আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে।

এই আদেশের বিরুদ্ধে জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মাসুদ। ওই জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকালে নথি পর্যালোচনা করেন হাইকোর্ট। নথিতে দেখা যায়, মাদক মামলাটি আমলে নিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। এরপর তার বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন। আইনের ব্যতয় ঘটিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোয় উভয় বিচারকের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চান হাইকোর্ট।

এছাড়াও মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের অগ্রগতি জানাতে আইন ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনাল স্থাপন সংক্রান্ত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৪ ধারা কার্যকরে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও জানাতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আইন মন্ত্রণালয় আদালতকে জানায়, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। গতকাল বিষয়টি শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৪৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, 'এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে পারবে। (৪) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, এই ধারার অধীন ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সংশ্লিষ্ট জেলার যেকোনো অতিরিক্ত জেলা জজ বা দায়রা জজকে তাহার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা