kalerkantho

ইডেন অধ্যক্ষ হত্যায় দুই গৃহপরিচারিকার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইডেন অধ্যক্ষ হত্যায় দুই গৃহপরিচারিকার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁর বাসার দুই গৃহপরিচারিকা রুমা ওরফে রেশমা ও রিতা আক্তার ওরফে স্বপনার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর হাকিম সাইদুজ্জামান শরীফ আজ রবিবার (২৫ আগস্ট) চার্জশিট গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে মামলায় সন্দেহভাজন আসামি রুনা আক্তারি ওরফে রাকিবের মাকে (৪৭) আদালত মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

নিউ মার্কেট থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাফায়েত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২১ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দুই গৃহপরিচারিকাকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন মজুমদার। মামলার সন্দিগ্ধ আসামি রুনা আক্তারি ওরফে রাকিবের মায়ের (৪৭) বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় মামলার আসামি রুমা ওরফে রেশমা ও রিতা আক্তার ওরফে স্বপনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত ও জব্দকৃত আলামতের ভিত্তিতে ভিকটিম মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে হত্যার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আসামি রুমা ওরফে রেশমা (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিম মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে (৬৬) নাক-মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ২০ ভরি সোনা, একটি স্যামসাং মোবাইল ফোনসেট এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা চুরি করেন। প্রমাণ হিসেবে তার কাছ থেকে ওয়ালটন মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

আসামি রিমা আক্তার ওরফে স্বপ্না (৩৭) মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করে কাজের বুয়া হিসেবে যোগদান করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনকে নাক মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নগদ টাকা, স্বর্ণলঙ্কার, মোবাইল চুরি করেছেন। প্রমাণ হিসাবে তার হেফাজত থেকে নগদ সাত হাজার টাকা, একটি গোলাপী রংয়ের ভ্যানিটি ব্যাগ, একটি স্বর্ণের চেইন, একটি স্যামসাং জে-৭ মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

আপ্রাণ চেষ্টা করেও এজাহারে উল্লিখিত অন্যান্য চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মামলার সন্দিগ্ধ আসামি রুনা আক্তারি ওরফে রাকিবের মা (৪৭) বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই গ্রেপ্তার রুমা ওরফে রেশমা ও রিতা আক্তার ওরফে স্বপনার বিরুদ্ধে পেনাল কোড আইনের ৪১৯/৩৮১/৩০২/৩৪/৪১১ ধারার আদালতে প্রকাশ্যে বিচারের নিমিত্তে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলো। রুনু আক্তার ওরফে রাকিবের মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা করলাম। মামলার বাদী, সাক্ষী, আলামত মামলার ঘটনা সত্যতা প্রমাণ করবে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে সুকন্যা টাওয়ারে নিজের বাসা থেকে মাহফুজা চৌধুরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সকালে পলাতক দুই গৃহকর্মী রেশমা ও স্বপ্নাসহ তিনজনকে আসামি করে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন মাহফুজার স্বামী ইসমত কাদের গামা।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা