kalerkantho

‘কূটনৈতিক ব্যর্থতায় নয়, অনিচ্ছার কারণেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ আগস্ট, ২০১৯ ২০:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘কূটনৈতিক ব্যর্থতায় নয়, অনিচ্ছার কারণেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি’

রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা নেই দাবি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজেদের অনিচ্ছার কারণেই দ্বিতীয় দফায় তারিখ ঘোষণা করেও তাদের পাঠানো সম্ভব হয়নি।

দুই বছর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে নির্ধারিত তারিখ ছিল ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার। কিন্তু রোহিঙ্গাদের কেউ ফেরত যেতে রাজি না হওয়ায় শুরু হয়নি প্রত্যাবসন প্রক্রিয়া। এর আগেও একবার এভাবে তারিখ ঘোষণা করেও শুরু হয়নি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

দ্বিতীয় দফায়ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে না পারাকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তাকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে সাংবাদিকরা লিখিত প্রশ্ন করেন।

জবাবে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের একটা দল ফেরত যাওয়ার কথা, ফেরত যায়নি তাদের অনিচ্ছায়। যেদেশে তারা ফিরে যাবে, আপন দেশে। সেখানে তাদের পরিবেশ, সংস্থান, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা এসব বিষয় তাদের মাথায় ছিল, থাকাটাই স্বাভাবিক। এখানে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কোনো বিষয় নেই।’

রিজভীর অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের পাশে আজ সবাই। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ থেকে শুরু করে যে দেশেই, যে ফোরামেই গেছেন তিনি এ বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছেন। সর্বশেষ চীনে গিয়েও তিনি এ বিষয়টাকে সর্বশেষে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কূটনীতি একটা চলমান বিষয়, হুট করে ব্যর্থতা কূটনীতির মধ্যে বলা যায় না। আমাদের প্রয়াস অব্যাহত আছে। আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নাই। অব্যাহত প্রয়াস একদিন সফলতা নিয়ে আসবে, এটা আমরা বিশ্বাস করি।’

কাদের বলেন, ‘১১ লাখ বিদেশির জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে শেখ হাসিনা এত উদারতার পরিচয় দিয়েছিলেন, যার প্রশংসা করেনি পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নাই। আমরা যদি সেদিন তাদের আশ্রয় না দিতাম তাহলে কী বলতো? আজকে ১১ লাখ মানুষ একদিন সফলতা আসবে। মিয়ানমারের ওপর সারা দুনিয়ার চাপ বেড়েই চলছে, কাজেই এখানে আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নেই, এটাই কূটনৈতিক সফলতা। তবে সবকিছু নির্ভর করে মিয়ানমারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর। সারা দুনিয়া থেকে যে চাপ আসছে আমরা বিশ্বাস করি এই সমস্যার সমাধান একদিন হবে, হতেই হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হাল ছেড়ে দিইনি, হাল ছেড়ে দেব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তিনি মাথা নত করার লোক নন, হাল ছেড়ে দেয়ার লোকও নন। মানবতার মা সারা দুনিয়ায় স্বীকৃত।’

বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সভাপতি সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির মহাসচিব প্রফেসর ড. এম কামরুজ্জামান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা