kalerkantho

মালয়েশিয়া শ্রমিক পাঠানো সিন্ডিকেটের কার্যক্রম তদন্তে ধীরগতি, হাইকোর্টের অসন্তোষ

# প্রতিবেদন দাখিলে ৩ মাস সময় বেধে দিলেন আদালত # তদন্ত কমিটিকে ৫ দফা কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দিলেন আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ১৮:০৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মালয়েশিয়া শ্রমিক পাঠানো সিন্ডিকেটের কার্যক্রম তদন্তে ধীরগতি, হাইকোর্টের অসন্তোষ

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ন্ত্রণকারী ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম তদন্তে গঠিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির তদন্তে ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত তদন্ত সম্পন্ন করতে ৩ মাস সময় বেধে দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, ১৪ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করলে কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার দায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে তদন্ত কমিটিকে ৫ দফা কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন। মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি উপেক্ষা করে ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।

এই আদালত এক আদেশে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন শেখ জালাল উদ্দিন।

আদেশের পর ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, ছয় মাসের মধ্যে তাদের একটা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। এখন ১০ মাস শেষ হতে চলেছে। এতো দিনেও প্রতিবেদন না দেওয়ায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় আমরা কমিটিকে কার্যপরিধি ঠিক করে দিতে আদালতে আবেদন করি। আদালত ৫টি কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

হাইকোর্ট গতবছর ২৯ অক্টোবর এক আদেশে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ন্ত্রণকারী ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম তদন্তের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তদন্ত করে ৬ মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষ গত ২৬ জুন আদালতকে জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের (কর্মসংস্থান অনুবিভাগ) অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত। এই সময়েও প্রতিবেদন না দিয়ে সময় আবেদন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী। এ প্রেক্ষাপটে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে তদন্ত কমিটির কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দিয়েছেন।  

৫ দফা কর্মপরিধি
১. ২০১৭ সালের ১০ মার্চ  থেকে ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে কোন কোন রিক্রুটিং এজেন্সি শ্রমিক পাঠাতে পেরেছে তার তথ্য দিতে হবে। 

২. মাইগ্রেশন খরচ বাবদ প্রত্যেক শ্রমিক থেকে কত টাকা নেওয়া হয়েছে।  

৩. মালয়েশিয়া থেকে ১০ জনের মাধ্যমেই শ্রমিক পাঠানো সিদ্ধান্ত আসার পর সরকারের কাছে বিবাদী নুর আলী পর্যায়ক্রমে সকলে মিলেমিশে লোক পাঠানোর প্রস্তাব দেন। সরকার তা অনুমোদন করে। এ অবস্থায় সকলে মিলেমিশে নাকি ১০টি এজেন্সিই লোক পাঠিয়েছে তা তদন্ত করতে হবে।

৪. মালয়েশিয়ায় শ্রমি পাঠানোর নামে মেডিক্যাল পরীক্ষা বাবদ কে কত টাকা নিয়েছে, যাদের মালয়েশিয়া পাঠানো যায়নি তাদের মেডিক্যাল বাবদ নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে হবে। 

৫. মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা পাঁচার হয়েছে কিনা তা তদন্ত করতে বলা হয়েছে। 

জানা যায়, মালয়েশিয়া ২০০৯ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এ কারণে ২০১২ সালে সরকারিভাবে কর্মী পাঠাতে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়। এরপর আড়াই বছরে আট হাজার কর্মী যান। তবে সাগরপথে অবৈধভাবে বিপুলসংখ্যক লোক মালয়েশিয়ায় যায়। ২০১৫ সালে থাইল্যান্ডে এবং মালয়েশিয়ায় গণকবর পাওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হয়। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে বেসরকারিভাবে কর্মী নেওয়ার প্রস্তাব দেয় মালয়েশিয়া। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে জি টু জি প্লাস (সরকারি-বেসরকারি) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বাংলাদেশ থেকে আর কোনো কর্মী না নেওয়ার ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়া। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসে। এরপর মালয়েশিয়ায় আবার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। 

চুক্তির শর্তানুযায়ী, কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া হয় অনলাইনে। এ কাজের জন্য সিনারফ্ল্যাক্স নামে নিজ দেশের একটি কম্পানিকে নিয়োগ দেয় মালয়েশিয়া সরকার। কিন্তু সিনারফ্ল্যাক্স বাংলাদেশের ১০টি রিক্রুট এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি করে।

এই ১০টি এজেন্সি হলো-ক্যারিয়ার ওভারসিজ, এইচএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স, সানজারি ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বী ইন্টারন্যাশনাল, প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটস, ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, প্রান্তিক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরিজম ও আল ইসলাম ওভারসিজ। একারণে এই ১০টি রিক্রুট এজেন্সি নিজেদের মতো টাকা নির্ধারণ করে আদায় করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ১০টি রিক্রুট এজেন্সির বিরুদ্ধে রিট আবেদন করা হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা