kalerkantho

ফের জামিন আবেদন ওসি মোয়াজ্জেমের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফের জামিন আবেদন ওসি মোয়াজ্জেমের

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিনের আবেদন শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় থাকলেও আজ বুধবার শুনানি হয়নি। মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবীর আবেদনে আদালত ‘নট টু ডে’ বলে আদেশ দেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন। মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিনের আবেদনটি বেঞ্চের কার্যতালিকার ২৬ নম্বরে ছিল। তবে মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা কাওছার আদালতে সময়ের আবেদন জানিয়ে বলেন, আজ (বুধবার) শুনানি করতে চাচ্ছি না। এরপর আদালত আদেশ দেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সাইবার ট্রাইব্যুনাল জামিনের আবেদন খারিজ করায় জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে হাইকোর্টে এই জামিন আবেদন করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে গত ১৬ জুন হাইকোর্টে হাজির হন মোয়াজ্জেম হোসেন। এরপর তার আগাম জামিনের আবেদন করা হয়। এই আবেদনের ওপর বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হয়। আদালত পরদিন শুনানির জন্য রাখার আদেশ দেন। এরপরই ওইদিন তাকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৭ জুন তাকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। সেই থেকে তিনি কারাবন্দি। সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার মা ২৭ মার্চ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দী রেকর্ড করেন এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে গত ৬ এপ্রিল নুসরাতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত। এ ঘটনায় করা মামলায় তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২৯ মে ফেনীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পরই নুসরাতের জবানবন্দীর (ওসির কাছে দেওয়া) বিষয়টি সকলের সামনে আসে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে গত ১৫ এপ্রিল মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেয়। এই নির্দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা লংঘনের অভিযোগ আনা হয় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবেদন পাবার পর গত ২৭ মে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

এরপর পলাতক অবস্থায় আগাম জামিনের জন্য গত ২৯ মে হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ওই জামিন আবেদনের ওপর আর শুনানি করেননি আইনজীবী। এরপর নিয়মিত বেঞ্চে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু শুনানির আগেই পুলিশ তাকে ১৬ জুন গ্রেপ্তার করে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা