kalerkantho

সহাবস্থানের পূর্বে জাকসু নির্বাচনের তফসিল নয় : ছাত্রদল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সহাবস্থানের পূর্বে জাকসু নির্বাচনের তফসিল নয় : ছাত্রদল

চলতি বছরের নভেম্বরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের লক্ষ্যে বেশ জোরে সোরেই এগুচ্ছে নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম। ইতোমধ্যে গঠন করা হয়েছে জাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটি। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ধরনের ছাত্র সংঠনের সাথে জাকসু নির্বাচন এবং এর গঠনতন্ত্র নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা পর্বও শেষ করেছে। শেষ দিনে জাকসুর গঠনতন্ত্র নিয়ে পর্যালোচনা ও প্রস্তাব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল, সাংবাদিক সমিতি, প্রেস ক্লাব, ছাত্র মুক্তি জোট।

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম সৈকত ‘সহাবস্থানের পূর্বে জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার’ দাবিসহ ৫টি দাবি এবং জাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধনে ১৯টি প্রস্তাবনা প্রদান করে।

জাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটি এর আগে জাকসু’র পূর্বের গঠনতন্ত্র নিয়ে পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগ, সাংস্কৃতিক জোট, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাথে আলোচনা করেছে এবং গঠনতন্ত্র সম্পর্কে তাদের প্রস্তাবনা ও মতামত নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম মিঞা বলেন, ‘যাদের সাথে আলোচনা হয়েছে তারা সকলেই নিজেদের প্রস্তাবনা ও মতামত দিয়েছে। তাদের কাছে থেকে যে সমস্ত প্রস্তাবনা পাওয়া গেল সেগুলো কাটছাট করে একটা খসড়া গঠনতন্ত্র করে সেটি সিন্ডিকেটে পাঠিয়ে দেব। সিন্ডিকেটে পাস হলে বাকি কাজ শুরু হবে।’

তিনি আরো জানান ‘নির্বাচন কমিশন পূর্ণাঙ্গ গঠিত হলে তখন তারাই বাকি কাজটুকু করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আর কাজ নেই। তখন তিনি যেভাবে সহায়তা চাইবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহায়তা করবে।’

তবে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ৩১ জুলাই জাকসু’র গঠনতন্ত্রের ৮ এর (ঙ) ধারা অনুযায়ী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরীকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করলেও তিনি এখনো পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন গঠন করেননি।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গৃহীত কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে তাদের মাঝে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর আলোর মুখ দেখতে যাওয়া জাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে আশায় বুক বেধেঁছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত সর্বত্রই তারা আলোচনা, পর্যালোচনা, মতামত আদান-প্রদান করছেন সহপাঠীদের সাথে।

তাদের অধিকাংশই বলছেন, জাকসু নির্বাচন যেন কোনোভাবেই ডাকসু নির্বাচনের মতো না হয় এবং সকল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

তারা বলছেন, ‘শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন দিবে কিনা বা নির্বাচনের আয়োজন করবে কিনা এ নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কেননা এর আগে ২০১৩ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন জাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সে সময় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজকে প্রধান করে নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন ২৬ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।’

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তুহিন হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমার যথেষ্ঠ আন্তরিক মনে হয়েছে এবং আমি আশাবাদী। তবে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব তারা যে সকল কার্যক্রম এখন পর্যন্ত গ্রহণ করছে সেগুলো যেন লোক দেখানো না হয়।

এর আগে জাবি প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হককে আহ্বায়ক করে জাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটি গঠন করে। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতি কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. এ টি এম আতিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. আকবার হোসেন, অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, আয়শা সিদ্দিকা, আনিছা পারভীন, প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, মাহমুদুর রহমান এবং সদস্য সচিব আবদুস সালাম মিঞা।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ২৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনের পূর্বে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জাকসু নির্বাচন কমিশন গঠন এবং এ বছরের নভেম্বর মাসে নির্বাচন প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা