kalerkantho

হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন ভোলার এসপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন ভোলার এসপি

একটি অস্ত্র মামলার আসামি জীবিত না মৃত- এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি বিচারপতির নামে প্রতিবেদন পাঠানোর ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মো. কায়সার। এই পুলিশ কর্মকর্তা আদালতকে লিখিতভাবে বলেছেন, ভবিষ্যতে আর এ ধরণের ভুল হবে না।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এসপির লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে তাকে অব্যাহতি দিয়ে আদেশ দেন। এই মামলায় পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রাজধানীর তেজগাঁও থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস মিয়া বেঁচে আছে কিনা সে বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সারসরি বিচারপতির নামে প্রতিবেদন দাখিল করায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাকে তলব করা হয়েছিল। গত ১৭ জুলাই হাইকোর্ট তাকে তলব করেছিলেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনে হাজির হয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিনের মাধ্যমে আদালতে ব্যাখ্যা দাখিল করেন।

এ সময় অপরপক্ষে (রাবেয়া খাতুনের পক্ষে) আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আশরাফুল আলম নোবেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হারুন-অর রশিদ।

জুলহাস মিয়া মারা গেছেন কিনা সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও ভোলার এসপিকে প্রতিবেদন প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এদের মধ্যে ডিএমপি কমিশনার যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু ভোলার এসপি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরন না করে সরাসরি বিচারপতির নামে চিঠি দিয়ে জুলহাসের বিষয় অবহিত করেন। এই চিঠি দেখে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাকে তলব করেন।

অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ তেজগাঁও থানার গার্ডেন রোডের একটি বাসা থেকে রাবেয়া খাতুনকে ২০০২ সালের ২ জুন গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সেদিনই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলায় রাবেয়ার জামাতা জুলহাস ও অপর এক ব্যক্তি মাসুদকে আসামি করা হয়। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। এর প্রায় ছয়মাস পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর রাবেয়া খাতুন ও জুলহাসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তবে ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর এই মামলায় ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। এই মামলার বিচার দীর্ঘ ১৬ বছরেও সম্পন্ন না হওয়ায় এ নিয়ে গত ২৫ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘অশীতিপর রাবেয়া : আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আশরাফুল আলম নোবেল।

এই রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে আসামি জুলহাস মিয়া বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও ভোলার এসপিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা