kalerkantho

গেজেট প্রকাশে স্থিতিবস্থার বিরুদ্ধে

নবম ওয়েজ বোর্ড: রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আদেশ কাল

# সাংবাদিক ছাড়া গণমাধ্যম মালিকেরও তো অস্তিত্ব নেই- প্রধান বিচারপতি # সংবাদপত্র ছাড়া সাংবাদিক অস্তিত্বহীন- রিটকারীর আইনজীবী # সরকারের ভূমিকা অ্যাম্বায়ারের মতো- অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৫:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নবম ওয়েজ বোর্ড: রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আদেশ কাল

সাংবাদিক ও সংবাদপত্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে গেজেট প্রকাশের ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আজ সোমবার আপিল বিভাগে শুনানি হয়েছে। আদালত কাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সোমবার শুনানি শেষে আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে নবম ওয়েজ বোর্ডের বিরুদ্ধে করা রিট আবেদনকারীর আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ আজ শুনানিতে বলেছেন, সাংবাদিকরা সংবাদপত্রের অপরিহার্য অংশ। সাংবাদিক ছাড়া সংবাদপত্র সাদা কাগজ। সাংবাদিকরাই তো পত্রিকায় চালাচ্ছে। তারা যদি কাজ না করেন, তাহলে পরদিন সাদা-কালো কাগজ বের হবে। সংবাদপত্র ও সাংবাদিক একে অপরের পরিপূরক। সংবাদপত্র ছাড়া সাংবাদিকরা অস্তিত্বহীন।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর এই বক্তব্যের জবাবে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সাংবাদিক ছাড়া গণমাধ্যম মালিকেরও তো অস্তিত্ব নেই।

হাইকোর্ট গত ৬ আগস্ট এক আদেশে নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে গেজেট প্রকাশের ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। দুইমাসের জন্য এই আদেশ দেওয়া হয়। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (নোয়াব) সভাপতি (দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক) মতিউর রহমানের করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট ওই আদেশ দেন। আদালত অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে শ্রম আইন অনুযায়ী অংশীজনদের আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ না দিয়ে একতরফাভাবে নবম ওয়েজ বোর্ড চূড়ান্ত করা এবং তা গেজেট আকারে প্রকাশের সুপারিশ করে সরকারের কাছে পাঠানো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ কমিটির আহ্বায়ক সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য সচিব, শ্রম সচিব ও নবম ওয়েজ বোর্ডের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। 

হাইকোর্টের এই আদেশের পর গেজেট জারির ওপর স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে। গত ১৪ আগস্ট চেম্বার বিচারপতির আদালত আবেদনটি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগে শুনানি হয়।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এখনও গেজেট প্রকাশিত হয়নি। গেজেট প্রকাশের আগেই এটা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা হয়েছে। তাই এই রিট অপরিপক্ক (প্রি-ম্যাচিউড)।

তিনি বলেন, এখানে সরকারের ভূমিকা অ্যাম্বায়ারের মত। সরকার সাংবাদিক ও মালিক উভয়পক্ষের স্বার্থই দেখবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশেই সংবাদপত্র বন্ধ হয়ে গেছে। এই প্রকাশনা যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে সেজন্যই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা অনেক কষ্ট করেন। তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সরকার ওয়েজবোর্ড গঠন করেছে। এখানে শুধুই সাংবাদিকদের স্বার্থ দেখা হচ্ছে না। এখানে মালিকপক্ষেরও স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।

এ এফ হাসান আরিফ বলেন, শ্রম বিধিমালার ১২৮ ধারা অনুযায়ী ওয়েজ বোর্ড একটি গেজেট প্রকাশ করবে। সেখানে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকলপক্ষ আপত্তি জানানো বা মতামত জানানোর জন্য ১৪ দিন সময় পাবে। এই আপত্তি জানানোর পর বিষয়টি চূড়ান্ত করে সরকার শ্রম আইনের ১৪৫ ধারা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করবে। কিন্তু তা হয়নি। ১২৮ ধারা অনুযায়ী গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। মালিকপক্ষকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রথম গেজেট করবে ওয়েজ বোর্ড। আর দ্বিতীয় গেজেট করবে সরকার। কিন্তু তা না করে সরাসরি গেজেট প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে আপনাদের জানানোর জন্য সময় দিন। এরপর আদেশ দিন। এ পর্যায়ে আদালত মঙ্গলবার আদেশের দিন নির্ধারণ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা