kalerkantho

চামড়ার দরপতনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০৭:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চামড়ার দরপতনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট

চামড়ার নজিরবিহীন ও অস্বাভাবিক দরপতনের কারণ খুঁজতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ ফরহাদ গতকাল রবিবার এ রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনে বাণিজ্য ও শিল্প সচিব, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনটি গতকাল প্রথমে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। তবে এই আদালত শুনানি করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর রিট আবেদনটি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আদালতও শুনানি গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় আইনজীবী জানান, আজ সোমবার হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে আবেদনটি উপস্থাপন করা হবে।

রিট আবেদনে চামড়ার অপ্রত্যাশিত ও অস্বাভাবিক দরপতন প্রতিরোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না,

দরপতনের কারণ খুঁজতে একটি জুডিশিয়াল (বিচার বিভাগীয়) তদন্ত কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দরপতনের সঙ্গে দায়ীদের ব্যাবসায়িক নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না মর্মে রুল জারির আরজি জানানো হয়। চামড়া নিয়ে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়।

১৫ আগস্ট কালের কণ্ঠে ‘গরিবের হকে সিন্ডিকেটের থাবা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, “প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্রের কারণে এবার ‘গরিবের হক’ কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে বড় ধস নেমেছে। বাড়তি মুনাফার লোভে ট্যানারির মালিকদের বেশির ভাগই সিন্ডিকেট করে কোরবানির পশুর চামড়া কিনছে না। অল্প যা বিক্রি হয়েছে তা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে অনেক কমে, নামমাত্র মূল্যে। এতে চামড়া সংগ্রহকারীরা বিপাকে পড়েছে। চামড়া পচে যাচ্ছে। দুর্গন্ধে নিরুপায় হয়ে অনেকে সংগৃহীত চামড়া রাস্তায় বা নদীতে ফেলে দিচ্ছে। মাটির নিচেও পুঁতে ফেলছে অনেকে। ঈদের পরের দিন মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার জালকুড়ির ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশের রাস্তায় কয়েক হাজার কোরবানির পশুর চামড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। সিলেট সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ফেলে রাখা অন্তত ২০ ট্রাক চামড়া ডাম্পিং স্পটে পুঁতে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় আরো অন্তত ২৫০টি পশুর চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর হাফিজিয়া হোসেনিয়া দারুল হাদিস কর্তৃপক্ষ পুঁতে ফেলেছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ৯০০ চামড়া। কোথাও মাত্র ৫০ টাকায় গরুর চামড়া বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। আবার ন্যায্য দামে চামড়া কিনে আড়তদারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা