kalerkantho

ঈদযাত্রায় প্রতিদিন প্রাণ হারিয়েছে ২২ জনেরও বেশি

সড়কে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া গতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০৮:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদযাত্রায় প্রতিদিন প্রাণ হারিয়েছে ২২ জনেরও বেশি

ফাইল ফটো

এবার ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির তিন দিন ও পরদিনসহ চার দিনে ৯১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এতে দেখা যায়, গড়ে প্রতিদিন প্রাণ হারিয়েছে ২২ জনেরও বেশি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় জানা গেছে, সড়কে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া গতি। ঈদ উপলক্ষে ১৫ দিনে অতিরিক্ত ট্রিপ দিতে মালিকদের চাপে চালকরা প্রতিযোগিতায় নামে। তখন গতিসীমা না মেনে গাড়ি চালানোর হার আরো বেড়ে যায়।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যানুসারে, ২০১৬ সালে ঈদুল আজহার আগে বাড়ি যাওয়া, ঈদের দিন ও ফেরার সময়ে সব মিলে ১৫ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে প্রতিদিন ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ২০১৭ সালে একই সময়ে একই কারণে গড়ে প্রতিদিন ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। গত বছর একই সময়ে গড়ে প্রতিদিন মৃত্যু হয় ১৬ জনের। এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে যাতায়াত-পর্ব পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঈদের সরকারি ছুটির তিন দিন ও পরদিনসহ চার দিনে ৯১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এতে দেখা যায়, গড়ে প্রতিদিন প্রাণ হারিয়েছে ২২ জনেরও বেশি।

অথচ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, স্বাভাবিক সময়ে দিনে প্রাণ ঝরে গড়ে ১০ জনের।

মহাসড়ক পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গেছে, বেশির ভাগ দুর্ঘটনার কারণ ছিল অতিরিক্ত গতি।

মহাসড়ক পুলিশ ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলছেন, ভাঙাচোরা সড়ক, তিন চাকার নিষিদ্ধ যান, মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচলের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তার চেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে অতিরিক্ত গতির কারণে। অতিরিক্ত গতিতে চালানোর কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাস দুমড়ে-মুচড়ে পড়ছে। যেমন—গত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া এলাকায় আট বাসযাত্রীর প্রাণহানির কারণ ছিল চালকদের অতিরিক্ত গতিতে বাস চালনা।

এবার ঈদুল আজহায় বাড়ি যাওয়ার সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজট ছিল শেষের দিকে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ছিল কম। তবে ফেরার সময় একই মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কেও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলে। ঈদের পর শৃঙ্খলা না থাকায় ও অতিরিক্ত গতির বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির অভাবে প্রাণহানি বেশি হচ্ছে। একক দুর্ঘটনায় বেশিসংখ্যক প্রাণহানির কারণ আলাদাভাবে তদন্তের দাবি করে দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাঈফুন নেওয়াজ বলেন, সাধারণত ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার বড় কারণ অতিরিক্ত গতি। ঈদের ছুটির পর থেকে ফাঁকা সড়ক ও মহাসড়কে ওভারটেকিং বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের প্রতিযোগিতার কারণেই প্রাণহানি বাড়ছে। এ জন্য গতি নিয়ন্ত্রণের কী অবস্থা তা কেন্দ্রীয়ভাবে তদারক করে অপরাধ চিহ্নিত করে আইন অনুসারে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া একজন চালক টানা পাঁচ ঘণ্টা যানবাহন চালাতে পারেন। এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দিনে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা গাড়ি চালানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ঈদের সময় যাত্রী পরিবহনের জন্য সড়কে গাড়ি বেশি নামে। অথচ বৈধ চালক কম। চালকের সংকটের কারণে অবৈধ চালকও গাড়ি চালাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা