kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

গুজবরোধে সারাদেশে তৎপর ৬১ লাখ আনসার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুজবরোধে সারাদেশে তৎপর ৬১ লাখ আনসার

পদ্মা সেতু নির্মাণে মাথা লাগবে বলে যে ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা একটি কুসংস্কার। তাই এই মিথ্যা প্রচার প্রতিরোধে কাজ করছে আনসার ও ভিডিপি। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে থাকা এ বাহিনীর ৬১ লাখ সদস্য জনগণকে সচেতন করছে। আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ। 

রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার ও ভিডিপির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় এ সময়  আরো উপস্থিত ছিলেন এ বাহিনীর অনান্য কর্মকতারা। তারা বক্তব্যে জানান, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের সর্ববৃহৎ শৃঙ্খলা বাহিনী। তৃণমূল পর্যায়ে এ বাহিনীর বিস্তৃত। স্বাধীনতা যুদ্ধেও এ বাহিনীর রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। 

মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যে ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা প্রতিরোধ করতে প্রতিটি গ্রামে আনসার সদস্যরা কাজ করছে। সমাজে এ ধরনের কুসংস্কার থাকলে গুজব ছড়াবেই। তাই কোনভাবেই এই গুজবে কান না দেওয়া যাবে না। এটা প্রতিরোধ করতে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আনসার লিডারদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এই বার্তা পেয়ে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজবে কান না দিতে জনসাধারণকে সচেতন করবেন ৬১ লাখ আনসার সদস্য। 

আনসার ভিডিপিকে সামনে এগিয়ে নিতে কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমানে সারাদেশে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সাড়ে ১২ হাজার আনসার কমাণ্ডারকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বেতন, ভাতা নিজস্ব ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দেওয়া হচ্ছে। আগে বাহিনীতে থ্রি নট থ্রি রাইফেল ব্যবহার করা হতো, যেটা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা কার্যক্রমে যথেষ্ট ছিল না। এখন নতুন ৩০ হাজার আধুনিক অস্ত্র এই বাহিনীর জন্য আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরো ২০ হাজার অস্ত্র আনা হবে। 

বাহিনীর দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোন আনসার সদস্য দূর্ণীতি ও অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। 

তিনি বলেন, এ বাহিনীর তিনটি মূল অংশ রয়েছে। তা হলো, আনসার বাহিনী, ব্যাটালিয়ন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দল। এই তিন বাহিনী তিনটি পৃথক আইন দ্বারা পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদ মর্জাদার মহাপরিচালকের নেতৃত্বে অপর দুজন সেনা কর্মকর্তাসহ বিসিএস (আনসার) ক্যাডারের কর্মকর্তাগণ কর্তৃক পরিচালিত আনসার ও ভিডিপির পৃথক পৃথক কার্যকারিতা রয়েছে। বর্তমানে পার্বত্র চট্টগ্রাম এলাকায় ১৬টি আনসার ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পদবীর প্রায় ৭ হাজার সদস্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের পাশাপাশি জননিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে বিভিন্ন অভিযানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আসছে।

পুলিশের মত মামলা তদন্তে এই বাহিনীর সক্ষমতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মত বিনিময় সভায় বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের ছয়টি সংস্থার মূল একটি হলো বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। শুধুমাত্র নির্বাচনী আইনেই নয়, বরং স্থানীয় সরকারের তিনটি আইনের ধারা-২ এ আনসার বাহিনী ও ব্যাটালিয়ন আনসারকে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি একই সংজ্ঞায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংগত কারণেই ব্যাটালিয়ন আনসার ফোর্স নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের সঙ্গে তাদের চাহিদা অনুযায়ী এককভাবে জননিরাপত্তার কাজে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে মোবাইল কোর্টে এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। তাই মামলা তদন্তে আনসার বাহিনী সক্ষম। এ বিষয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেটা এখন প্রক্রিয়াধীন আছে। জাতিসংঘ মিশনেও আনসার সদস্যরা কাজ করছে।   

আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মতবিনিয় সভা চলে। এ সময় সভা সূত্র আরো জানিয়েছে, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে ২৬টি জেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় উদ্ধার কাজ, বাঁধ ও সড়ক মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতেও এ বাহিনীর সদস্যরা একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার দায়িত্ব পালন এ বাহিনীর একটি নিয়মিত কাজ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালীন সময় দুস্কৃতিদের হামলায় এই বাহিনীর ১১ জন সদস্য মৃত্যু বরণ করেন। ক্রীড়াক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভৃমিকা রয়েছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এ বাহিনী ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করে। 

আজ বেলা ২টা পর্যন্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাশেষে ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন কৃতি আনসার ক্রিয়াবিদকে স্বর্ণপদক প্রদান করেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা