kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

পুলিশের সোর্স হাসু হত্যার মূলহোতা রাজিব গ্রেপ্তার

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৩ জুলাই, ২০১৯ ১৬:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের সোর্স হাসু হত্যার মূলহোতা রাজিব গ্রেপ্তার

পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে মাহাবুব হাসান হাসু (৩০) নামে এক পুলিশ সোর্সকে খুন করে কেরানীগঞ্জের কয়েকজন মাদক কারবারি। প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এ হত্যা মামলার মূল হোতা রাজিব ওরফে সুটার রাজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় বছর পর গতকাল গাজীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।

আসামি রাজিবের বরাদ দিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই সাদিকুর রহমান জানান, নিহত মাহাবুব হাসান হাসু পুলিশের সোর্স হিসেবে মাঝে মাধ্যে কাজ করতেন। এ হত্যা মামলার মূলহোতাকে গ্রেপ্তারের পর বিজ্ঞ আদালত ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাকে হাজির করা হলে তিনি তার জবানবন্দীতে হত্যার কারণ স্বীকার করেছেন।

রাজিব জানান, তারা কয়েক বন্ধু গলাচিপা হাসান, জামাল, রমজান এবং তিনি নিজেও মাদক কারবারি ছিলেন। তারা কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্নস্থানে মাদক ব্যবসা করতেন। হাসুর সাথে তাদের সখ্যতা ছিল অনেকদিনের। ঘনিষ্ঠতার সূত্রে হাসু তাদের মাদক ব্যবসায়ের সকল খবর জানতেন। এ সুবাদে প্রায়ই জামাল, হাসান, রাজীবের কাছ থেকে পুলিশের নাম বলে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করতেন হাসু। চাঁদা না দিলে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি দিতেন। হাসু এদের কয়েকবার পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে মামলা করিয়ে জেলও খাটিয়েছে বলে রাজিব জানান।

হাসান, রাজিব, জামাল ও রমজান মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছর ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ভোরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হাসুকে বাসা থেকে ডেকে এনে আসামিরা হাসুর বাসার সামনেই এলোপাথাড়ি ছুড়িকাঘাত করে পালিয়ে যায়। এরপর ওই এলাকার নাইডগার্ড হাসুর পরিবারকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসুকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসুকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হাসুর বড় বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে আমরা এ পর্যন্ত এ হতাকাণ্ডের মূলহোতা ছাড়া সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছি। আসামিরা সবাই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে এবং হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মামলার বাদী নিহতের বড় বোন জানান, আমার ভাই নিহত হওয়ার আজ প্রায় দেড় বছর পর হত্যার মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে পুলিশ। আশা করি আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুবিচার পাব।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাকের মোহাম্মদ যুবায়ের জানান, সোর্স হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা সবাই খুনের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মূলহোতা স্যুটার রাজীবের নামে ভিন্ন ভিন্ন থানায় কয়েকটি মামলা আছে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা