kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

ঝাড়ফুঁকের সুযোগে জিনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও বলাৎকার করতেন ইমাম

অনলাইন ডেস্ক   

২২ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝাড়ফুঁকের সুযোগে জিনের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও বলাৎকার করতেন ইমাম

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার একটি মসজিদের ইমাম একাধিক নারীকে ধর্ষণ ও কিশোরদের বলাৎকার করছে- এমন 'জঘন্যতম নৈতিক স্খলন' এর একটি অভিযোগ আসে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১ এর কার্যালয়ে। অভিযোগকারী জানান, অভিযুক্ত মসজিদের ইমাম ইদ্রিস আহম্মেদ (৪২) দীর্ঘদিন বর্ণিত এলাকায় বসবাস করছেন। সেই সাথে পেশাগত কারণে ওই এলাকায় তার বিশেষ প্রভাব রয়েছে এবং ওই প্রভাবকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন সে যাবৎ কৌশলে ধর্ষণ ও বলাৎকারের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে আসছে। 

উল্লেখিত বিষয়ে অভিযোগকারী র‌্যাব ১ এর নিকট আইনি সহায়তা চাইলে র‌্যাব বিষয়টি আমলে নিয়ে ছায়া তদন্ত এবং গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।

দীর্ঘ গোয়েন্দা অনুসন্ধানের পর র‌্যাব ১ এর নিকট উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ইদ্রিস আহম্মেদ (৪২) এর বাড়ি সিলেট জেলায়। সে সিলেটের একটি মাদরাসা থেকে ১৯৯৮ সালে টাইটেল পাস করে। এরপর সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের একটি মসজিদে ইমামতি এবং পাশাপশি একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করে। ৪ বছর পর সে ২০০২ সালে ঢাকায় আসে এবং দক্ষিণখানের বর্ণিত মসজিদে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হয়। সে প্রায় ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে উক্ত মসজিদের ইমামতি, স্থানীয় একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা ও ঝাড়ফুঁক এবং তাবিজ-কবজ বিক্রয় করে আসছে। তার সাথে জিন আছে মর্মে সে প্রচার করে এবং তার কুকর্মের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে এটিকে ব্যবহার করে। 

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে এসে র‌্যাব ১ এর নিকট অভিযুক্ত ইদ্রিস আহম্মেদ (৪২) এর অনেক কুকর্মের তথ্য উঠে আসে। জানা যায় যে, স্থানীয় সাধারণ লোকজন অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে তার নিকট প্রায়শই ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ নিতে আসে যার মধ্যে নারীদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এই সুযোগ কাজ লাগিয়ে সে তার নিকটে আসা সুন্দরী নারীদের মিথ্যা ঝাড়ফুঁক ও জিনের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ধর্ষিত ভিকটিম পরবর্তীতে আত্মসম্মান এবং কুসংস্কারের কারণে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা কাউকে বলে না। এ পর্যন্ত সে একাধিক নারীর সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযুক্ত মো. ইদ্রিস (৪২) এর এসব অপকর্মের গভীর অনুসন্ধানে উঠে আসে আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, মসজিদে তার রুমে খেদমতের অজুহাতে নিয়ে সে কিশোরদের জোরপূর্বক বলাৎকার করে। এ ছাড়াও সে যে মাদরাসায় শিক্ষকতা করে সেখানকার ছাত্রদের মসজিদে ডেকে নিয়ে এসে কৌশলে বলাৎকার করে। এ সময় সে কৌশলে মোবাইল ফোনে তার ভিডিও ধারণ করে। এই পর্যন্ত অনেক উঠতি বয়সের কিশোরকে বলাৎকার করেছে বলে জানা যায়, যাদের বয়স ১২-১৯ বছরের মধ্যে। বলাৎকারের শিকার ভিকটিমকে পরবর্তীতে দুষ্ট জিন ও তাবিজ করার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয় এবং বার বার একই কাজের জন্য ভিকটিমকে বাধ্য করা হয়। তাবিজ ও জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে সে একই সাথে একাধিক ভিকটিমকে বলাৎকার করেছে বলেও জানা যায়। এ ছাড়াও একাধিক ভিকটিমকে তার রুমে নিয়ে এসব অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে সে বাধ্য করে। কোনো ভিকটিম তার এসব অনৈতিক কাজে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখানো হয়। এতে বাধ্য হয়ে ভিকটিম অনিচ্ছা সত্ত্বেও বারংবার তার কাছে বলাৎকারের শিকার হয়। তার এ ধরনের অনৈতিক কাজের জন্য র‌্যাব ১ তাকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে দ্রুত তৎপরতা শুরু করে।  

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় র‌্যাব ১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন সৈয়দ নগর এলাকা হতে ইদ্রিস আহম্মেদ (৪২) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাঝ থেকে একটি মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনটি বিশ্লেষণ করে ধর্ষণ ও বলাৎকারের অনেক ভিডিও ও ছবি পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি ইদ্রিস আহম্মেদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বর্ণিত ঘটনাগুলোর সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, ২০০৯ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিল। এ সময় সে ঝাড়ফুঁকের নামে ও জিনের ভয় দেখিয়ে একাধিক নারীকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেছে। এ ছাড়াও অদ্যাবধি সে তার একাধিক ছাত্রকে ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক বলাৎকার করে আসছে। গ্রেপ্তার হওয়ার এক সপ্তাহ পূর্বেও এক কিশোরকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেছে এবং তার ভিডিও ধারণ করেছে বলে আসামি জানায়। এ যাবৎ ১০/১২ জনের বেশি কিশোরকে বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে বারংবার বলাৎকার করেছে বলে স্বীকার করে সে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা