kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

প্রিয়া সাহার অভিযোগে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না : গণপূর্ত মন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জুলাই, ২০১৯ ১৮:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিয়া সাহার অভিযোগে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না : গণপূর্ত মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে প্রিয়া সাহা যে অভিযোগ করেছেন তাতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

তিনি বলেছেন, প্রিয়া সাহা অভিযোগ করেছেন মুসলিম মৌলবাদীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এটাও অসত্য। আমার এলাকায় কোনো মৌলবাদীর অবস্থান নেই। কাজেই তার এ ধরনের অভিযোগে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন।

আজ রবিবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রিয়া সাহার ইস্যুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রিয়া সাহার বাবার বাড়ি ও তার নিজের বাড়ি একই ইউনিয়নে। তার এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব ধর্মের মানুষ শান্তি-সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করছে।

মন্ত্রী বলেন, নাজিরপুরের মাটিভাংগা ইউনিয়নের অধিবাসী আমি। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয়ে অনেক আলোচিত হচ্ছে। আমার ইউনিয়নের চরবানিয়ারী গ্রামের প্রিয় বালা সাহা নামে একজন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কতগুলি অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের বিষয়গুলি নিয়ে বিভিন্ন পর্যাযয়ে অনেক আলাপ আলোচনা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি সেই এলাকার সংসদ সদস্য হিসাবে এবং একই ইউনিয়নের অধিবাসী হিসেবে দেশবাসীকে এই বিষয়টি অবহিত করার জন্য আপনাদের (সাংবাদিক) আমন্ত্রণ জানিয়েছি। প্রিয় বালা বিশ্বাসের বাবার নাম নগেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। তিনি বিবাহসূত্রে যশোরের অধিবাসী। প্রিয় বালা নাজিরপুর এলাকায় বসবাস করেন না এবং তার কোনো বসতঘর বা জমি নেই। এই গ্রামে তার বাবার পৈত্রিক সম্পত্তি ও ভাইদের সম্পত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রিয় বালা বিশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্ট্রান ‘ডিজঅ্যাপিয়ার’ হয়েছেন। আইনের ভাষায় ‘ডিজঅ্যাপিয়ার’ হচ্ছে গুম হয়ে যাওয়া। আমার নির্বাচনি এলাকায় প্রিয়া বালার বাবার বাড়ির এলাকায় অন্য ধর্মের একজনও গুম হয়নি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি আমার এলাকা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অপূর্ব নিদর্শনের একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এলাকা।

তিনি বলেন, তার ভাই জগদীস চন্দ্র বিশ্বাস একজন অবসারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। বাড়িতে কেউ থাকেন না। একটি পরিত্যক্ত ঘরে রাতে আগুন লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জগদীস বিশ্বাসের কেয়ারটেকার কমলেশ বিশ্বাস নাজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, এমনকি কাউকে সন্দেহ করেন এমন কোনো নামও উল্লেখ করেননি। এজাহারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কোনো মৌলবাদীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে এমন শঙ্কার কথাও বলা হয়নি।

এ কারণেই পিরোজপুর জেলা পুজা পরিষদের সভাপতি বিমল মন্ডল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি তুষার মজুমদার তারা শনিবার বিবৃতি দিয়েছেন যে, প্রিয়া বালার এ বক্তব্যের সঙ্গে কেউ একমত নন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা