kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ জুলাই, ২০১৯ ১৮:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একজন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানিতে ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি

ছবি ভিডিও থেকে

রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানে 'মাথা কাটা' সন্দেহে এক নারীকে আটক করা হয়। এরপর এক তরুণের প্রচেষ্টায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এলাকাবাসী বারবার ওই নারীকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিতে চাচ্ছিলো।  আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। 

এ এইচ শাকিল নামের এক ব্যক্তি 'গুজবে গুজবিত পুরোদেশ ...' শিরোনামে তার ফেসবুকে ছেলেধরা ও গণপিটুনি প্রসঙ্গে লিখেছেন। তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

"দুপুর ৩টার ঘটনা, মাথা কাটা সন্দেহে ১২-১৪ বছরের এক মেয়েকে ফায়দাবাদ, দক্ষিণখানের একটি ছয়তলা ভবন থেকে আটক করলো এলাকার কয়েকজন।

খবর শুনেই বের হয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এসে আসল ঘটনা জানার চেষ্টা করি। পরবর্তীতে 'মাথা কাটা' কিংবা এমন অপকর্মের কোনো নাম গন্ধও পাইনি। অতি-উৎসাহী জনগণ 'মাথা কাটা' ইস্যু ধরে মারধর করতে চাইলে বাধা দেই, এবং পরক্ষণে পুলিশকে ইনফর্ম করার জন্য বলে বাসায় আসি।

সাড়ে ৪টায় খাওয়া-দাওয়া করা অবস্থায় অনেকেই ফোন দিচ্ছিলো। খাওয়া দাওয়া শেষ করে ফোন ব্যাক করতেই শুনি 'তোর বাসার সামনে মাথা কাটা চক্রের সদস্যকে ধরে রাখসে, তুই কই?' শুনে হতবাক আমি।

কি অবস্থা সেটা দেখতে বাসা থেকে বের হওয়ার স্বিদ্ধান্ত নেই। দরজা খুলতেই শুনি মানুষের চিল্লাচিল্লি। পরে গেটে গিয়ে দেখি বের হওয়ার জন্য রাস্তা অনুকুলে ছিলো না কারণ রাস্তায় ছিলো মানুষে ভর্তি।

জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে, বললো মাথা কাটা চক্রের সদস্য ধরেছে। জিজ্ঞেস করলাম কোথা থেকে এসেছেন আপনি?
যে ঠিকানা দিলো তা আমার বাসা থেকে ৩-৪ কিলো দূর থেকে।

পরে কিছু না বলে লোকজন পার হয়ে যাই পাশের বাসায়। যেখানে মেয়েটি আটক অবস্থায় আছে। যাওয়ার সময় রাস্তার মানুষ আর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো মেয়েটিকে তাদের হাতে হস্তান্তর করার কথা বলছে।

জিজ্ঞেস করলাম কি করবেন?
উত্তর- পিষে ফেলবো।
আবার জিজ্ঞেস করলাম কেন?
উত্তরে- মাথা কাটা চক্রের সদস্য তাই।
জিজ্ঞেস করলাম আপনি জানেন সে মাথা কাটা দলের সদস্য?
উত্তরে- মানুষ তো তাই ই বলতেছে।

পরক্ষণে পুলিশ আসলে বিস্তারিত জেনে চোর সন্দেহে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আর সাধারণ বা উৎসুক জনগন চিল্লাচ্ছে তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য।

তাই সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে, কোন কিছু না জেনে না বুঝে শুধু শুনেই কোন প্রকার মন্তব্য কিংবা একশনে যাবেন না।

ভুলে যাবেন না আপনি মানুষ, তোতা পাখি নন যে শুনে শুনেই বলবেন।

তাই যা শুনবেন তা আগে ভালো করে জানুন, তারপর মন্তব্য করুন।

আর মনে রাখবেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে হস্তান্তর করুন।

কারণ আপনি বা উৎসুক জনগন না বুজে শুধু শুনেই একশনে যাবে, কিন্তু কর্তব্যরত ব্যক্তিগণ না বুঝে শুনেই কিছু করবেন না।"

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা