kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

আইন বিশেষজ্ঞদের অভিমত

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গর্হিত অপরাধ

জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নিতে হবে

এম বদি-উজ-জামান    

২১ জুলাই, ২০১৯ ০৯:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গর্হিত অপরাধ

ছবি প্রতীকী

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ সারা দেশে ছেলেধরা সন্দেহে গত কয়েক দিনে গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে ছেলেধরা কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার আগেই গণপিটুনির শিকার হচ্ছে তারা। কাউকে সন্দেহ হলেই গণপিটুনির মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এ ধরনের ঘটনায় যেকোনো নিরীহ মানুষও গণপিটুনির শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আবার নিরীহ মানুষ নিজের অজান্তেই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির মুখোমুখি হয়ে যেতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অবস্থায় মানুষ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় সে জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে এখনই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা উচিত। সারা দেশে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করার পরামর্শ দিয়ে তাঁরা বলেছেন, গণপিটুনিতে অংশ নেওয়া মানুষটিও মৃত্যুদণ্ডের সাজার মুখোমুখি হয়ে যেতে পারে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য।

ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, যেকোনো মানুষকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা একটি সামাজিক অপরাধ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া গর্হিত অপরাধ। এজাতীয় অপরাধ যাতে কেউ না করে সে জন্য এখনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘নেত্রকোনায় এক যুবকের ব্যাগে শিশুর মাথা পাওয়ার পর স্থানীয় জনতা তাকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলল। এ ঘটনায় পুলিশ ওই যুবককে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা করেছে। এই মামলায় গণপিটুনিতে অংশ নেওয়া যেকোনো ব্যক্তি ফেঁসে যেতে পারেন। কারণ মানুষ হত্যা করার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। মামলায় আসামি হওয়া ব্যক্তিকেই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হত্যা করেননি। আর আদালতে তিনি যদি সেটা প্রমাণ করতে না পারেন, তবে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ কারণেই স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে, মানুষ যাতে হুজুগে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয় সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা। কোনো ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন মনে হলে মানুষ যেন তাকে ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। অথবা ধরার আগে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দেয়, যাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে পারে। এটা হলেই শুধু এজাতীয় সন্দেহজনকভাবে গণপিটুনির হাত থেকে মানুষ রক্ষা পেতে পারে।’

সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এখনই যদি এটা বন্ধ করা না যায়, তাহলে যেকোনো নিরীহ মানুষও এর শিকার হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে যেকোনো ব্যক্তিই তার প্রতিপক্ষকে এভাবে ফাঁসিয়ে (গণপিটুনির শিকারে পরিণত করা) দিতে পারে। তাই সারা দেশে আইন যাতে মানুষ নিজের হাতে তুলে না নেয় সে জন্য মাইকিং করতে হবে। গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। মাইকিং করে বলতে হবে, এভাবে কাউকে হত্যা করা হলে গণপিটুনিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিও কঠিন শাস্তির (মৃত্যুদণ্ডের) মুখোমুখি হতে পারে। তাই কেউ যাতে নিজের হাতে আইন তুলে না নেয়। গণমাধ্যমকেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তারাও সচেতনতা বাড়াতে সংবাদ প্রচার করতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা