kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

আসছে নতুন ৮৩ দ্বিতল বাস, বিআরটিসির পুরনো বাস ঠিক করার উদ্যোগ নেই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ১০:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসছে নতুন ৮৩ দ্বিতল বাস, বিআরটিসির পুরনো বাস ঠিক করার উদ্যোগ নেই

ফাইল ফটো

ঈদের আগেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে যোগ হতে যাচ্ছে আরও ৮৩টি ভারতীয় দ্বিতল বাস।  তবে বিআরটিসির বিভিন্ন ডিপোতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে শত শত বাস। এসব বাস ঠিক করার কিংবা বিক্রি করার উদ্যোগ আলোর মুখ দেখছে না। এ অবস্থায় নতুন বাস কিনে বিআরটিসির গাড়ি বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

ভারতীয় ঋণের আওতায় বিআরটিসির জন্য দ্বিতল, একতলা এসি এবং নন-এসি বাস সংগ্রহ প্রকল্পে ভারত থেকে বাসগুলো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতায় কয়েক ধাপে ৫১৭টি বাস বাংলাদেশে এসেছে। বাকি ৮৩টি বাস ঈদুল আজহার আগেই আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে জানায় বিআরটিসি।

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১২ আগস্ট। তার আগেই ঈদযাত্রায় অধিকাংশ বাস দেশের লংরুটে চলাচল করবে বলে জানিয়েছে বিআরটিসি সূত্র।

জানা গেছে, প্রতিটি বাসের আসন সংখ্যা ১২০টি। বিশাল আকৃতির বাসগুলোতে আরও ৪০ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। একেকটি বাস পাঁচটি মিনিবাসের সমান যাত্রী বহন করতে সক্ষম।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ভারতীয় কোম্পানি অশোক লেল্যান্ডের কাছ থেকে প্রতিটি ৭২ লাখ টাকা দরে ৩০০টি ডাবল ডেকার, ৬৯ লাখ টাকা দরে একশটি এসি সিঙ্গেল ডেকার, ৭০ লাখ টাকা দরে একশটি সিঙ্গেল ডেকার এসি ইন্টারসিটি এবং ৪২ লাখ টাকা দরে টাটার কাছ থেকে একশটি সিঙ্গেল ডেকার নন-এসি বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১২ বছর।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধেই একশটি এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশটি নন-এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশটি সিঙ্গেল ডেকার ইন্টারসিটি ও ২১৭টি ডাবল ডেকার বাস বাংলাদেশে এসেছে। বাকি ৮৩টি ডাবল ডেকার বাস আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।

ভারত থেকে আরো দুই বিলিয়ন ডলার (২০০ কোটি ডলার) নমনীয় ঋণ (এলওসি) পেয়েছে বাংলাদেশ। অবকাঠামো বিশেষ করে রেল, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে এ অর্থ ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশ। অন্তত ৭৫ শতাংশ পণ্য ও সেবা অবশ্যই ভারত থেকে আমদানি করতে হবে। ৬০০টি বাস কিনতে প্রথমে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৮০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে ৪৩৪ কোটি ৩২ লাখ টাকাই ইন্ডিয়ান লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে আসবে। পরে ব্যয় কমে হয় ৫২৫ কোটি টাকা।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ৫৮৮টি পুরনো বাস রয়েছে। মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর ও গাবতলী বাসডিপোতে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বিআরটিসির অচল বাসগুলো। কোনো কোনো বাসের কেবল বাইরের আবরণ আছে, যন্ত্রাংশ খুলে পড়েছে। দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কিছু কিছু বাস দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। কিছু কিছু বাসের চাকা দেবে গেছে মাটির সঙ্গে। কিছু বাস পুড়েছে রাজনৈতিক আগুনে হরতাল-অবরোধের সময়। এসব বাস ঠিক না করেই নতুন বাসগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা