kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

বরগুনার রিফাত হত্যা মামলায়

মিন্নির রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদনে আদেশ দেননি হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিন্নির রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদনে আদেশ দেননি হাইকোর্ট

বরগুনায় প্রকাশ্যে শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নেওয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হলেও আদালত কোনো আদেশ দেননি। আদালত বলেছেন, মামলাটি তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাই এ মুহুর্তে আমরা হস্তক্ষেপ করবো না। 

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন।

মিন্নির রিমান্ড নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুক হোসেন রিমান্ড বাতিলের নির্দেশনা চান। এ সময় আদালত উল্লেখিত মন্তব্য করেন।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখিয়ে আইনজীবী ফারুক হোসেন বলেন, এ মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলো আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। বাদির সবচেয়ে আস্থাভাজন হিসেবেই মিন্নিকে এক নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে। অথচ তাকে ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে নির্যাতন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরপর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এটা অমানবিক। মূল হোতাদের আড়াল করতেই মামলার প্রধান সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার এজাহারভূক্ত আসামিদের মধ্যে এখন কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অথচ প্রধান সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি বলেন, মিন্নি এ মুহুর্তে স্বামী শোকে কাতর। আমরা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির রিমান্ড বাতিল ও মামলা সঠিক পথে পরিচালনার নির্দেশনা চাচ্ছি। এ সময় আদালত বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। এ অবস্থায় আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। 

আইনজীবী বলেন, তদন্ত সঠিক পথে হতে হবে। মিন্নিকে ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে তোলা হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। সেতো সাক্ষী। তাকে পরেও গেপ্তার করা যেতো। তাই বিষয়টি উচ্চ আদালতের দেখা উচিত। তছাড়া তারপক্ষে কোনো আইনজীবীও দাঁড়াচ্ছে না।

এ সময় আদালত বলেন, পুলিশ বলছে, তার (মিন্নি) বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এখন আপনার কিছু করার থাকলে ফৌজদারি আইন ও নিয়ম মেনে করুন। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন। আদালত বলেন, নিম্ন আদালতেই এই আবেদন (রিমান্ড বাতিল) করার সুযোগ রয়েছে। আপনারা সেখানে যান। আদালত পরিবর্তনের আবেদনও করতে পারেন। এমনকি ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী হাইকোর্টেও বিচার করার আবেদন করারও সুযোগ রয়েছে।

এ সময় অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার সিদ্দিকাসহ দুইজন নারী আইনজীবী বলেন, তারপক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারছে না। নারী বলে কি বৈষ্যমের শিকার হবে? মিন্নির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আপনাদের হস্তক্ষেপ চাই।

এ সময় আদালত বলেন, এটা বলবেন না। দেশে অনেক মানবাধিকার সংগঠন আছে। নারী সংগঠন আছে। তাদেরতো কোনো ভূমিকা দেখছি না।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহত রিফাতের পিতা আব্দুল আলিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিফাত ফরাজী, টিকটক হৃদয়সহ বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া এজাহারভুক্ত নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। এ অবস্থায় ১৬ জুলাই রাতে মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে পরদিন তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা