kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

বিপুলপরিমাণ ফেনসিডিলসহ আট মাদক কারবারি আটক

অনলাইন ডেস্ক   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ১৮:০৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিপুলপরিমাণ ফেনসিডিলসহ আট মাদক কারবারি আটক

দিনাজপুর জেলার বিরামপুর হতে কাঁঠালবোঝাই ট্রাকে করে মাদকের একটি বড় চালান রাজধানী ঢাকায় আসছে- এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১। এর পর ট্রাকটির গতিবিধির ওপর নজর রাখা শুরু করে ক্রাইম প্রিভেনশন কম্পানির একটি বিশেষ দল। একপর্যায়ে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাধীন হাউজ বিল্ডিং এলাকায় মাদক বহনকারী ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় দলটি। 

নিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে এর পর চলে অভিযান। আজ ১৭ জুলাই ভোররাতে পরিচালিত ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিপিসি ১ এর স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান। বিপুলপরিমাণ ফেনসিডিলসহ আটক করা হয় আট মাদক কারবারিকে।

আটককৃতরা হলো : মো. রাজু আহম্মেদ (৩২), মো. মুন্না (২০), মো. সাগর (১৯), মো. ইউসুফ (৩০), মো. নূর ইসলাম (৩৪), মো. রফিকুল ইসলাম (৫০), মো. মফিজুল ইসলাম (৩১) ও মো. মোস্তাফিজুর (২০)-কে। এ সময় তাদের কাছ থেকে (গাড়ি তল্লাশি করে) ৭১৮ বোতল ফেনসিডিল, ৮টি মোবাইলফোন ও নগদ ১৭০০/- টাকা উদ্ধার করা হয় এবং ১টি ট্রাক, ১টি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়।

মাদক কারবারি রাজু আহম্মেদ জানায়, সে পেশায় একজন ট্রাকচালক। সে এর আগে ঢাকা-খুলনা রুটে একটি নৈশ কোচের ড্রাইভার হিসেবে নিয়োজিত ছিল। মাদক কারবারের সাথে জড়িত হওয়ার পর থেকে সে নৈশ কোচ ছেড়ে ট্রাক চালনা শুরু করে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ট্রাকে মৌসুমি ফসল পরিবহনের আড়ালে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল রাজধানীতে নিয়ে আসছে। মাদক কারবারিদের নিকট হতে চালানপ্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকে বলে স্বীকার করে সে। এ ছাড়াও সে ইতিপূর্বে প্রায় ৭টির বেশি মাদকের বড় চালান ঢাকায় নিয়ে এসেছিল বলে জানায়। 

অপর দুই আসামি মুন্না ও সাগর তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে। তারা মাদক কারবারিদের নিকট হতে চালানপ্রতি ৫-৭ হাজার টাকা নিয়ে থাকে বলে জানায়। তারা এযাবৎ ১০-১২টি মাদকের চালান ঢাকায় পৌছাতে সহযোগিতা করেছে বলে স্বীকার করে।

আসামি ইউসুফ বলে, সে পেশায় একজন উবারের গাড়িচালক। সে ৭ বছরের বেশি সময় ভাড়ায় প্রাইভেট কার চালাত এবং পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাদক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢাকার অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করত। সে এই সিন্ডিকেটের সাথে কাজ করার আগে মাদক কারবারি গণির সাথে কাজ করত বলে জানায়। গণি চলতি বছর এপ্রিল মাসে মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর থেকে সে এই চক্রের সাথে কাজ শুরু করে। ঢাকায় মাদক পরিবহনের জন্য সে চালানপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা নেয়। মূলত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে আসা মদাকদ্রব্য ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করতে পারে না বিধায় মাদক কারবারিরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য পৌছাতে প্রাইভেট, সিএনজি ইত্যাদি ছোট পরিবহন ব্যবহার করে থাকে।

রফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এটি একটি সংঘবন্ধ মাদক চোরাচালানচক্র। ধৃত অপর আসামি নূর ইসলাম, মফিজুল ইসলাম এবং মোস্তাফিজুর এই চক্রের অন্যতম সদস্য। তারা মাদকের চালান সংগ্রহ করে ট্রাকে তুলে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর পূর্বেই সেখানে পৌছে যায় এবং স্থানীয় মাদক কারবারিদের নিকট পাইকারি ও খুচরামূল্যে বিক্রি করে। তারা প্রাইভেট কার/সিএনজিতে করে মাদকের খুচরা চালান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেয় বলে জানায়। চালানপ্রতি তারা ৮-১০ হাজার টাকা পায়। তারা বিরামপুরের জনৈক মাদক কারবারি মনসুর এর হয়ে কাজ করে এবং এযাবৎ ৩০টিরও বেশি মাদকের চালান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সরবারহ করেছে বলে স্বীকার করে।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা