kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

এমএসএফের কুতুপালঙে চিকিৎসা সেবা প্রদানের দশ বছর পূর্তি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমএসএফের কুতুপালঙে চিকিৎসা সেবা প্রদানের দশ বছর পূর্তি

চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী আর্ন্তজাতিক মানবিক সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স/সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল (এমএসএফ) মঙ্গলবার কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং হাসপাতালে উন্মুক্তভাবে ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের দশ বছর উদযাপন করে।

২০০৯ সালে হাসপাতালটি মূলত একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে কুতুপালঙের স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ হাসপাতালটির বহিঃবিভাগে নয় লাখ ২৫ হাজার ৪৩৬টি স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং এক লাখ ৮৩ হাজার ৬৮২ জনকে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া ১৯ হাজার ৬০২ জন রোগীকে অন্যান্য হাসপাতালে 'সেকেন্ডারি লেভেলের' চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। হাসপাতালটিতে ১০ বছরে ছয় হাজার ৫০২টি ডেলিভারি করা হয়, যার মধ্যে ৬৫ শতাংশ ছিল বাংলাদেশি নবজাতক।

আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের হেলথ কোঅর্ডিনেটর ডাঃ আবু তোহা, উখিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফখরুল সুমনভ 

এমএসএফ-এর প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ইয়াশোবর্ধন বলেন, 'কুতুপালঙে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পুরণে সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দলের দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকার আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আবার নিশ্চিত করছি। গত এক দশকে এই হাসপাতালটি রোগীদের উচ্চমানের ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বাংলাদেশি থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা- সবার জন্য আমাদের হাসপাতাল সব সময় খোলা। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের বহু আগে মিয়ানমারের বৈষম্য ও সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ক্রমবর্ধমান রোগীদের প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য কুতুপালং হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালের আগস্টে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমনের পর কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সুযোগ বাড়াতে এমএসএফ ১০টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং বৃহৎ পরিসরে পানি ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে তার কর্মকান্ড বৃদ্ধি করেছে।

এমএসএফের ইমার্জেন্সি কোঅর্ডিনেটর আরুণ জেগান বলেন, ‘উখিয়ার সাধারণ মানুষ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনের একটি অংশ হতে পারে এমএসএফ সত্যিই সম্মানিত বোধ করে। এই হাসপাতালের কর্মকান্ড নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিচালনায় সহায়তার জন্য আমরা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সমর্থন ও আমাদের মেধাবী বাংলাদেশী স্টাফদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া এই কাজ করা একদমই সম্ভব হত না। রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এমএসএফ কক্সবাজারে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ।'

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের বাইরে, ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের আলীনগর ও মাদবর বাজারে এমএসএফের দু'টি বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে। এখানে এমএসএফ বিভিন্ন ক্ষুদ্র কারখানার প্রায় সাত হাজার কর্মীর জন্য পেশাগত স্বাস্থ্য ঝুঁকির নানা সমস্যা সমাধানে সেবা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, এবং যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার শিকারদের জন্য চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ সেবা দিয়ে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা