kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

নুসরাত হত্যা : পি কে এনামুলের 'নিষ্ক্রিয়তা' তদন্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ২০:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নুসরাত হত্যা : পি কে এনামুলের 'নিষ্ক্রিয়তা' তদন্তের নির্দেশ

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা ও হত্যার আগে করা যৌন হয়রানির ঘটনায় ওই মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পি কে এনামুল করিমের নিষ্ক্রিয়তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনপ্রশাসন ও শিক্ষা সচিবকে বিষয়টি তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের আজ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ২০ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

আদালত বলেছেন, যদি তদন্ত করে তিনি (পি কে এনামুল করিম) ব্যবস্থা নিতেন তাহলে হয়তো নুশরাতের এই করুণ পরিণতি হতো না। 

আদালত অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। জনপ্রশাসন, শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ফেনীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সোনাগাজী থানার ওসিকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেন আদালত। 

'এডিএম এনামুলের ভূমিকা, পুলিশের তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন মন্ত্রণালয়ের' শিরোনামে গত ২১ জুন  পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়। আবেদনকারী নিজেই শুনানি করেন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম।

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ একই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। এরপর ৪ এপ্রিল নুসরাত ও তার মা অধ্যক্ষ সিরাজের বিচার চাইতে মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এনামুল করিমের অফিসে যান।

এ বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বিচার তো দূরের কথা, তিনি(এনামুল করিম) ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন নুসরাতকে। এনামুল তাদের বলেন, এখন কেন এসেছেন। আপনারা তো মামলা করে ফেলেছেন। মামলা করার আগে এলে দেখতাম, কী করা যায়।

তিনি নুসরাতকে আরো বলেন, প্রিন্সিপাল খারাপ, সবাই জানে। তুমি তার কাছে গেছো কেন। যখন গেছো, তখন হজম করতে পারলে না কেন? তোমার বাবাকে মাদরাসায় বসানোর জন্য এ রকম নাটক সাজিয়েছ।

উল্লেখ্য, মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী ও বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থা মারাত্মক হওয়ায় তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাতে মারা যায়। নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পৃথক একটি মামলা হয়েছে।

এই মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন(পিবিআই) অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ফেনীর আদালতে বিচার শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা