kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আ. লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ, সভাপতির নির্দেশনার অপেক্ষা

তৈমুর ফারুক তুষার   

৮ জুলাই, ২০১৯ ১০:১০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আ. লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ, সভাপতির নির্দেশনার অপেক্ষা

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠনের তিন বছর মেয়াদের কেন্দ্রীয় কমিটি চলছে সাত বছর ধরে। কৃষক লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ-এ তিন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদই বছরের পর বছর একই ব্যক্তির দখলে। ফলে নতুন নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে আছে। পদপ্রত্যাশী তরুণ নেতারা হতাশ হয়ে পড়ছেন। ২০১২ সালে সম্মেলন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ দুই দফায় নতুন সরকার গঠন করলেও ওই তিন সংগঠনে আসেনি নতুন কমিটি। এ অবস্থায় গত মে ও জুন মাসে দুই দফায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওই সংগঠনগুলোর সম্মেলনের বিষয়ে নির্দেশনা দেন। কিন্তু এর পরও সম্মেলনের প্রস্তুতি শুরু হয়নি। তিন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশনা পেলে তাঁরা সম্মেলনের কাজ শুরু করবেন।

কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একটি যৌথ সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা সহযোগী সংগঠনগুলোর যাদের কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের সম্মেলনের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়নি। সম্মেলনের জন্য নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সময় পাওয়ার ব্যাপার রয়েছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। নেত্রী বললে আমরা সম্মেলন করতে পারব।’

সর্বশেষ সম্মেলনের সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সম্মেলন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে রেজা বলেন, ‘নানানিধ কারণ রয়েছে। জাতীয় নানা ইস্যু, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিএনপির আন্দোলন ইত্যাদি কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্মেলনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের ১কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাধারণভাবে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা বলেছেন, সম্মেলন করা দরকার। আমাদের সম্মেলন উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি এখনো এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলেননি। উনার কাছ থেকে ফাইনাল কোনো তারিখ পাইনি। বিগত সময়ে আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থা অর্জন করেছি। উনি যখনই সময় দেবেন, আমরা সম্মেলন করতে পারব। আমাদের সেই প্রস্তুতি রয়েছে।’

২০১২ সালে কমিটি হওয়ার পর এখনো সম্মেলন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের সম্মেলনের কিছুদিন পরই বিএনপি-জামায়াত দেশে আগুন-সন্ত্রাস শুরু করে। ফলে সম্মেলনের জন্য অনুকূল পরিবেশ ছিল না। তবে আমরা বেশির ভাগ জেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করেছি। জুলাই মাসে রংপুর, নওগাঁ, সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটির সম্মেলন হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ আরো যে ১৫-২০টি জেলা আছে, সেগুলোর সম্মেলনের তারিখও শিগগির চূড়ান্ত করা হবে।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সম্মেলনের জন্য আমাদের মানসিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি আছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যখনই আমাদের সম্মেলন করতে বলবেন, সঙ্গে সঙ্গেই আমরা তা করতে পারব। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভবনটি ভেঙে ফেলার পর আমাদের অফিস নিয়ে কিছুটা সমস্যা ছিল। এখন আমাদের একটি অফিস ব্যবহার উপযোগী করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকেই সেখানে বসতে পারব।’

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন প্রসঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর যাদের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের আমরা এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছি। শুধু সহযোগী সংগঠন নয়, আওয়ামী লীগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা শাখার যেসব কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের নিজ নিজ সম্মেলন সম্পন্ন করার জন্য আমরা কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দিয়েছি। যেসব কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের জাতীয় সম্মেলনের আগে সম্মেলন দেওয়ার জন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি।’ গত ১৯ জুন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মে মাসে আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় দলের তখনকার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোকে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেন।

২০১২ সালের ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ১৪ জুলাই যুবলীগ, ১৯ জুলাই কৃষক লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। তিন বছর মেয়াদি কমিটিগুলোর ২০১৫ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। ওই সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন কর্মসূচির কারণে সম্মেলন পিছিয়ে যায়। কিন্তু পরে আন্দোলন থামলেও আর সম্মেলন হয়নি।

যুবলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম যুবলীগের চেয়ারম্যান থাকাকালে কমিটিতে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখনো যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন। ৬০ বছর হওয়ার পরও অনেকে যুবলীগের নেতৃত্বে আছেন। এতে ছাত্রলীগ থেকে ওঠে আসা নেতারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তরুণ অনেক নেতাই রাজনীতিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।’

কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় এক সম্পাদক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘নানা ছুতায় এক কমিটি দিয়ে সাত বছর পার করছে বর্তমান কমিটি। তাদের কাজ শুধু কমিটির নানা পদে পরিবর্তন করে পয়সা কামানো। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে একেক সময় একেকজনকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে বাণিজ্য করছেন একাধিক নেতা। এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনার পরও সম্মেলন পেছানোর জন্যই তাঁরা আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনার অপেক্ষার কথা বলছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা