kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

ঢাবির পরীক্ষায় নামি সাত ব্র্যান্ডের দুধই মানহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ঢাবি প্রতিনিধি    

২৬ জুন, ২০১৯ ০৯:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাবির পরীক্ষায় নামি সাত ব্র্যান্ডের দুধই মানহীন

১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষায় আশঙ্কাজনক বা ক্ষতিকর কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। 

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরীক্ষায় বাজারে চলমান নামি সাত ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত কলিফর্ম ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে আরো আট পণ্যে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিস রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে থাকা ৭৫ শতাংশ পাস্তুরিত দুধেই ভেজাল ধরা পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। এই প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ। এই রিট আবেদনে গত বছরের ২১ মে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি করে বাজারে থাকা পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। খাদ্য ও স্বাস্থ্যসচিব এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালককে দেওয়া এই নির্দেশের পর গতকাল বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী জিনাত হক।

প্রতিবেদনে যে ১৪টি কম্পানির দুধ পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে সেগুলো হলো- ইছামতি ডেইরির পুরা, ড্যানিশ ডেইরির আয়রান, ব্র্যাক ডেইরির আড়ং ডেইরি, আকিজ ফুডের ফার্মফ্রেশ মিল্ক, আমেরিকান ডেইরির মো, শিলাইদহ ডেইরির আলট্রা, বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্কের ডেইরি ফ্রেশ, উত্তরবঙ্গ ডেইরির মিল্ক ফ্রেশ, রাফি অ্যান্ড ব্রাদার্সের কাউ হেড পিওর মিল্ক, মিল্ক ভিটা, আফতাব, তানিয়া, ঈগলু ও প্রাণ মিল্ক।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদ ও বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার বলেছে, তাদের পরীক্ষায় প্রাণ, মিল্ক ভিটা, আড়ংসহ সাত নামি ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান মিলেছে। পাস্তুরিত এসব দুধে মাত্রাতিরিক্ত কলিফর্ম ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব ধরা পড়েছে। এ ছাড়া ঘি, ফ্রুট ড্রিংক, গুঁড়া মসলা, ভোজ্য তেলসহ অন্তত আটটি পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফল তুলে ধরেন বায়োমেডিক্যাল রিসার্চের পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসির অধ্যাপক আ ব ম ফারুক। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাজারে ব্যাপকভাবে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরবর্তী সময়ে বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সহায়তায় সেগুলোর গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ফারুক বলেন, বাজারে চলমান সাতটি পাস্তুরিত ও তিনটি অপাস্তুরিত দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১০টি নমুনাই বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। পাস্তুরিত দুধের সাতটি নমুনার কোনোটিতেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রার ‘সলিড নট ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি। এগুলো হলো মিল্ক ভিটা, আড়ং, প্রাণ, ফার্ম ফ্রেশ, ঈগলু, ঈগলু চকোলেট ও ঈগলু ম্যাংগো। বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী দুধে ‘ফ্যাট ইন মিল্ক’ ৩.৫ শতাংশ থাকার কথা থাকলেও এগুলোতে আছে ৩.৬ থেকে ৩.৬১ শতাংশ। এসব দুধে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক রয়েছে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পাস্তুরিত দুধের সব কটিতে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক লেভোফ্লক্সাসিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রয়েছে ফরমালিন ও ডিটারজেন্টের উপস্থিতি।   

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাজারে প্রচলিত ১১টি ফ্রুট ড্রিংকসের সব কটিতে নিষিদ্ধ ক্ষতিকর সাইক্লামেটের উপস্থিতি মিলেছে। এগুলো হলো স্টার শিপ ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংকস, সেজান ম্যাংগো ড্রিংক, প্রাণ ফ্রুটো, অরেনজি, প্রাণ জুনিয়র ম্যাংগো ফ্রুট ড্রিংক, রিটল ফ্রুটিকা, সান ড্রপ, চাবা রেড এপল, সানভাইটাল নেক্টার ডি ম্যাংগো, লোটে সুইটেন্ড এপলন ড্রিংক, ট্রপিকানা টুইস্টার প্রভৃতি। এ ছাড়া আরকো, বিডি, ড্যানিশ, ফ্রেশ, প্রাণ, রাঁধুনী ও প্লাস্টিকের ব্যাগে বিক্রীত মরিচ ও হলুদের গুঁড়াতে অতিরিক্ত জলীয় পদার্থের উপস্থিতি মিলেছে। হলুদে রয়েছে ‘মেটানিল ইয়েলো’ নামের কাপড়ের রং, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

আ ব ম ফারুক বলেন, আড়ং, বাঘাবাড়ী, প্রাণ, মিল্ক ভিটা, মিল্কম্যান, সুমির ও টিনে বিক্রি হওয়া ঘি মানোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়েছে। রূপচাঁদা, পুষ্টি, সুরেশ, ড্যানিশ ও বসুধা সরিষা তেলসহ বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ভোজ্য তেলেও মানহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। রূপচাঁদা, রাঁধুনী, তীর, ফ্রেশ, পুষ্টি, সুরেশ, ড্যানিশ, এসিআই, মুসকান ইত্যাদি ব্র্যান্ডের সরিষা ও সয়াবিন তেল মানোত্তীর্ণ নয়।

মন্তব্য