kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

উৎসে কর দ্বিগুণ হচ্ছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার হিড়িক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ জুন, ২০১৯ ০৮:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উৎসে কর দ্বিগুণ হচ্ছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তোলার হিড়িক

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকে গ্রাহকের ভিড়। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে থাকেন আমিনুল ইসলাম। পেনশন থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনে রেখেছেন। সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই এখন তাঁর পরিবারের আয়ের বড় উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ভবনের নিচতলায় অপেক্ষা করছিলেন মুনাফার টাকা তোলার জন্য।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রামের বাড়িতে সামান্য জমি আছে। সেখানে কিছু ফসল হয়। আর নগদ আয় বলতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা। এই দিয়েই সংসার চলে। শুনেছি ৩০ তারিখের পর থেকে বাড়তি কর কাটবে ব্যাংক। এ কারণে মুনাফার টাকা তুলতে এসেছি।’  

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আমিনুল ইসলামের মতো শত শত বিনিয়োগকারীকে গভর্নর ভবনের নিচতলায় দেখা গেল, যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে এসেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে সঞ্চয়পত্রের  মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে এই কর ছিল মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ। এ কারণে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের পর থেকেই ব্যাংকে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। সবাই আগেভাগে মুনাফা তুলে নিচ্ছে। কারণ ৩০ জুনের পর থেকেই এই মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ কর কার্যকর হবে। ১ জুলাইয়ের আগের মুনাফার ওপরও বর্ধিত হারে কর দিতে হবে। ফলে আগেভাগেই মুনাফা তোলার জন্য বিনিয়োগকারীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।  

মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে মেয়েকে নিয়ে মুনাফা তুলতে এসেছেন হোসনে আরা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই শ্বশুর ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে একসঙ্গে থাকেন। মেয়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খুঁজছে। তাঁর পরিবারের সব খরচের জোগান আসে এই সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে। তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে চাকরি পাওয়ার আগ পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফাই ভরসা। এই আয় যদি কমে যায় তাহলে সমস্যা তো হবেই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মুনাফা তুলতে গত ১৫ জুন থেকেই সাধারণ মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়তই ভিড় বাড়ছে। ৩০ তারিখের আগ পর্যন্ত মুনাফা তোলার এই প্রবণতা কমবে না বলেও মনে করছে তারা। প্রতিদিনই তিন-চার হাজার মানুষ টাকা তুলতে আসছে বলে জানান তাঁরা। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকেই নয়, এমন ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সোনালী ব্যাংকের নিচতলায়ও।

বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে ১১ শতাংশ করে সুদ নির্ধারণ করা আছে। প্রতি তিন মাস পর এই সুদ বা মুনাফা বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সঞ্চয়পত্রে বেশি বিনিয়োগ করে বলে জানা গেছে। অনেক অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীর আয়ের একমাত্র উৎস এই সঞ্চয়পত্র। এই টাকাতেই তাদের সংসার চলে। এ কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বাড়তি কর আরোপ করায় এসব সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা কাজ করছে।

মতিঝিলের সোনালী ব্যাংকের নিচতলায় ক্যাশ কাউন্টারে কথা হয় সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে। ষাটের বেশি বয়সী এই লোকটিও এসেছেন মুনাফার টাকা তুলতে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদ কমাল না, কিন্তু আয়ের ওপর কর বাড়াল। আমার পরিবার চলেই এই টাকাটার ওপর। সরকার এখানে কর না বসালেও পারত।’   

উল্লেখ্য, বাজেট প্রস্তাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৪৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে সরকার, যা পুরো অর্থবছরের  লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬৬ শতাংশ বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা