kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

নারী কেলেংকারীর পর ঘুষ কেলেংকারি

ডিআইজি মিজান সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০১৯ ২৩:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিআইজি মিজান সাময়িক বরখাস্ত

ডিআইজি মিজান। ফাইল ছবি

নারী নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় বহুল আলোচিত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এই আদেশ দেয়। মঙ্গলবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ‘রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে অনুমোদনের পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র সচিব (জন নিরাপত্তা বিভাগ) মোস্তাফা কামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাকে (মিজান) সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
 
দেড় বছর আগে মিজানের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই সময় দুটি তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। এরই মধ্যে গত ৮ জুন অনুসন্ধান থেকে রেহাই পেতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার দাবি করেন মিজান। 
 
গণমাধ্যমে ঘুষ কেলেংকারি আলোচিত হলে দুদকের ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে বেশ কিছুদিন বহাল তবিয়তে ছিলেন ডিআইজি মিজান। গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন) ড. মইনুর রহমান চৌধুরীকে প্রধান করে তার বিরুদ্ধে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়ে গত সোমবার দুদক মিজানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এরই মধ্যে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলেও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। 
 
মরিয়ম আক্তার ইকো নামে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ায় ওই তরুণীর বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তাকে গ্রেপ্তারও করান মিজান।
 
এছাড়া, এক সংবাদ পাঠিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তোলপাড় শুরু হলে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মইনুর রহমান চৌধুরী ও অতিরিক্ত আইজিপি শাহাব উদ্দীন কোরেশীকে প্রধান করে দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদর দপ্তর। দু’টি তদন্ত কমিটিই ডিআইজি মিজানের কর্মকাণ্ডকে ‘অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলন’ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে। গত বছরের (২০১৮) শুরুতেই দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগও আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন পাঠালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়নি মন্ত্রণালয়। 
 
এবারের ঘটনায় আলোচনা শুরু হলে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রপতির কাছে বরখাস্তের বিষয়ে অনুমোদন চেয়ে আবেদন করে। আগে তদন্ত করা পুলিশের শীর্ষ দুই কর্মকতাকে এবারও মিজানের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিও তদন্ত করে সুপারিশ দেবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা