kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

সুশাসনের অভাবে বন্ড দুর্নীতি হচ্ছে

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ    

২৫ জুন, ২০১৯ ১০:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুশাসনের অভাবে বন্ড দুর্নীতি হচ্ছে

সুশাসনের অভাবে বন্ড দুর্নীতি হচ্ছে। বন্ড সুবিধা যাদের দেওয়া হয়েছে তাদের অনেকে এ সুবিধার অপব্যবহার করছে।

আবার নজরদারির দায়িত্বে নিয়োজিতদের অনেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। এভাবে বন্ড দুর্নীতির জন্য দুই পক্ষই দায়ী।

আরো পরিষ্কার করে বলা যায়, এই দুর্নীতিতে অসাধু ব্যবসায়ীরা জড়িত। তবে এটা অস্বীকার করা যাবে না যে এনবিআর দায়ী নয়। কারণ বন্ড দুর্নীতি নজরদারির দায়িত্ব এনবিআরের। এটা বহু বছরের পুরনো দুর্নীতি। এটা অপব্যবহার করা হচ্ছে। একা ব্যবসায়ীর পক্ষে এ দুর্নীতি করা কঠিন। এটা একটা চেন। এই চেনের অন্যরা সহযোগিতা না করলে বন্ড দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। সরকার ব্যবসায়ীদের ভালো করতে গিয়ে এ সুবিধা দিয়েছে। এখন যদি এনবিআর বলে আমার লোকবলের সংকটে বন্ড দুর্নীতি নজরদারি করতে পারছি না, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা না থাকায় এ দুর্নীতি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন, তাহলে তা মানা হবে না। কারণ এত দিনে কেন এনবিআর লোকবল বাড়ায়নি? কেন প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম হয়নি? এসব প্রশ্ন চলে আসবেই।

বন্ড দুর্নীতির জন্য বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। দেশি ব্যবসায়ীরা সংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বন্ড দুর্নীতিতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। এতে অন্যরা বন্ড দুর্নীতি করতে ভয় পাচ্ছে না।

বন্ড সুবিধা প্রাপ্ত খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কারা বন্ড দুর্নীতিতে জড়িত তা ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নিতে হবে। তাদেরকে নিজ উদ্যোগে সরকারকে সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে।

বন্ডসংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। একটা তদন্ত করে শাস্তি দিতে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়। বন্ড দুর্নীতি কমাতে হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এতে অন্যরা ভয়ে আর এ দুর্নীতি করতে সাহস পাবে না। বছরের পর বছর অস্তিত্বহীন ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে, আবার অর্থও পাচার করছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। অচিরেই বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ড দুর্নীতি বন্ধে এনবিআর কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হতে কত দেরি হবে? ২০১২ সালে গ্রহণ করা ভ্যাট আইন বাস্তবায়নে এখনো অনলাইন ব্যবস্থাপনা করতে পারেনি। এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার।

বন্ড সুবিধা প্রাপ্ত খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোতে বন্ড দুর্নীতি বন্ধে সোচ্চার হতে হবে। কারণ এমন অনিয়ম চললে সরকার একসময় বন্ড সুবিধা বাতিল করে দিতে পারে, এ আশঙ্কা আছে। তাই সরকার এবং ব্যবসায়ী একজোট হয়ে বন্ড দুর্নীতি বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে।

বন্ড দুর্নীতি বন্ধের জন্য ব্যাংক, এনবিআরের মূল দপ্তর, বন্দর, ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সব তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা অনলাইনে থাকতে হবে। এতে বন্ডসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসবে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে যে পণ্য কিনে আনার কথা বলবে তার দাম ও পরিমাণ যাচাই করতে হবে। এ কাজেও এনবিআরকে দক্ষতা দেখাতে হবে। তাহলে বন্ড দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।

বন্ড দুর্নীতি এখন একটি সিন্ডিকেটে পরিণত হয়েছে। এ সিন্ডিকেট শক্তিশালী। এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভাঙতে এনবিআরকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে শক্তভাবে এগিয়ে যেতে হবে।

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)

অনুলিখন : ফারজানা লাবনী

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা