kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

বিসিএমএর সংবাদ সম্মেলন

প্রস্তাবিত বাজেট সিমেন্ট খাতের জন্য ব্যবসাবান্ধব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৫ জুন, ২০১৯ ০৯:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রস্তাবিত বাজেট সিমেন্ট খাতের জন্য ব্যবসাবান্ধব নয়


২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সিমেন্ট খাতের জন্য ব্যবসাবান্ধব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির (বিসিএমএ) নেতারা। তাঁরা বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে টনপ্রতি সিমেন্টে কর ও শুল্ক বাড়বে ৯৫৩ টাকা। এ হিসাবে প্রতি ব্যাগ সিমেন্টে খরচ বাড়বে ৪২ টাকা। উত্পাদন পর্যায়ে এই বাড়তি খরচ দেশের সিমেন্ট শিল্পকে হুমকিতে ফেলবে।

বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিসিএমএ নেতারা। সংগঠনের সভাপতি আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি ও মেট্রোসেম সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল্লাহ ও পরিচালকরা।

দেশের সিমেন্ট শিল্প স্বয়ংসম্পন্ন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়,  স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রপ্তানি করা হয়। এই সম্ভাবনাময় শিল্পে অতিরিক্ত কর আরোপ করলে এই শিল্প রুগ্ণ হয়ে পড়বে। সরকারের অবকাঠামো খাতের বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় বাড়বে। এ ছাড়া আবাসন খাত ও বাজেটে চাপে থাকা মধ্যবিত্তের ওপর খড়্গ নেমে আসবে।

আলমগীর কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্ট খাতে কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ এআইটি ও ৩ শতাংশ উেস কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এটি সমন্বয় করে আগের মতো ফেরতযোগ্য কর করার দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া আগাম কর ৫ শতাংশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছর নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে আমদানি পর্যায়ে চলতি হিসেবে ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত অগ্রিম ভ্যাট দিতে হবে। রাজস্ব খাতে অগ্রিম আয়কর  ও নতুন ভ্যাট আইনে দেওয়া ৫ শতাংশ অতিরিক্ত জমা হলে এনবিআরের কাছে দেশীয় শিল্পের কয়েক হাজার কোটি টাকা অগ্রিম হিসেবে পড়ে থাকবে। এতে স্থানীয় শিল্পের চলতি মূলধনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিসিএমএ সভাপ বলেন, এই শিল্পের কাঁচামাল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। তাই আমদানি পর্যায়ে দেওয়া ৫ শতাংশ রেয়াত সুবিধা না থাকলে বিক্রয় ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ মোট মুনাফা এবং মূল মুনাফা ১৫ শতাংশ করতে হবে। কিন্তু তা কিছুতেই সম্ভব নয়। ফলে মূল্য নির্ধারণ বাজার সহায়ক না হলে উত্পাদন ও বিক্রয় কমে গিয়ে এই শিল্পের স্থিতিশীলতা ও সক্ষমতা কমবে।

রাজস্ব খাতে আগাম হিসেবে এখনো কয়েক শ কোটি টাকা জমা পড়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ টাকা কবে পাওয়া যাবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এরপর আরো ৫ শতাংশ হারে আগাম ভ্যাট কর্তন করলে দেশের শিল্পে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। এই শিল্পে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হুমকিতে পড়বে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলমগীর কবির বলেন, ১০ বছর ধরে এই খাতে ১০ থেকে ১৫  শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বাজারে সাড়ে তিন কোটি টন সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে। দেশের ৪২টি সিমেন্ট কারখানা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় সিমেন্ট রপ্তানি করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা