kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দুই মাস স্থগিত

‘ওয়ান ডিজিট সুদ’ ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় হাইকোর্টের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ জুন, ২০১৯ ০৮:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দুই মাস স্থগিত

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরো দুই মাস বাড়িয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে জারি করা রুলের জবাব দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। 

আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম (অ্যাটর্নি জেনারেল) ও ব্যারিস্টার মুনীরুজ্জামান। এদিকে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্যাকেটে সিলগালা করে হাইকোর্টে দাখিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হাইকোর্ট গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ঋণখেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন। এই তালিকা দাখিল করে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গতকাল হাইকোর্টকে জানানো হয়, দেশে ১০ হাজার ৪৭৬টি হিসাবের বিপরীতে নেওয়া খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮০ হাজার কোটি টাকা মামলা করে আটকে রাখা হয়েছে। আর অবলোপন ঋণের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা ফেরত পাওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল, আপত্তি আবেদনকারী পক্ষের গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম আদালতে ঋণখেলাপিদের তালিকা দাখিল করেন। তিনি বলেন, ‘আমি অ্যাটর্নি জেনারেল নই, ব্যক্তি আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এসেছি।’ তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী এই তালিকা গোপনীয়। এটা প্রকাশ করা যাবে না। এ সময় রিট আবেদনকারীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, তিনি তো রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল। এ মামলায় সরকার তথা অর্থ মন্ত্রণালয়ও বিবাদী। তাঁর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী হওয়া ঠিক হবে না।

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ব্যক্তি আইনজীবী হিসেবে দাঁড়াতে  তো আইনগত বাধা নেই। এ সময় আদালত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের মামলা পরিচালনা করা ঠিক হবে না। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাব।’

ভালো ঋণ গ্রহীতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছে

শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, একটি স্বাধীন কমিশন করা নিয়ে রুল জারির পর ২ শতাংশ সুদ জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃ তফসিলের জন্য সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সার্কুলার জারির পর ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এই

সার্কুলারের পর ইচ্ছা করে খেলাপি হবে আর ভালো গ্রহীতারা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। আদালত এ সময় ওই সার্কুলারকে ‘দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। 

‘ওয়ান ডিজিট সুদ’ ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় আদালতের ক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ওয়ান ডিজিট সুদ’ ব্যবস্থা কার্যকর না হওয়ায় আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা ওয়াদা করে এলো যে ওয়ান ডিজিট কার্যকর করবে। কিন্তু এই ওয়াদা রক্ষা করলে না। বাংলাদেশ ব্যাংকও কোনো ব্যবস্থা নিল না।

অর্থপাচার করে সেকেন্ড হোম বানিয়েছে

শুনানির একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কেউ কেউ ঋণ নিয়ে বিপদে পড়েছে। বিনিয়োগের পর লস হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান করেও সমস্যা হয়েছে। এসব কারণে ঋণখেলাপি হয়েছে। তাই এসব বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে। এ সময় আদালত বলেন, কেউ কেউ শিল্পপ্রতিষ্ঠান করার কথা বলে ঋণ নিয়ে নামে মাত্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান করে বাকি টাকা বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। বিদেশে সেকেন্ড হোম বানিয়েছে। এসব কারণে ব্যাংকিং কমিশন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ করা যাবে না

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেওয়া ঋণখেলাপির তালিকা দাখিল করে মাহবুবে আলম বলেন, এই তালিকা প্রকাশ করা যাবে না। এ কারণে তা সিলগালা করে দাখিল করা হয়েছে।

এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, সুইস ব্যাংক অনেক শক্তিশালী। তার পরও আদালতের নির্দেশে তারা তালিকা প্রকাশ করেছে। তাই এখানেও তালিকা প্রকাশে সমস্যা থাকার কথা নয়। এ ছাড়া তথ্য অধিকার আইনেও এই তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা