kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

বাজেটে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে

সিপিডির গবেষণা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ জুন, ২০১৯ ১১:৩২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাজেটে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে। সে তুলনায় বিত্তশালীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে—এমনটাই মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলেছে, বাজেটে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য কমানো, বিনিয়োগ বাড়ানোসহ প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতির তেমন লক্ষণ নেই। যা আছে তাতে বড় ব্যবসায়ীরা সুবিধা পাবে ঠিকই কিন্তু ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হবে না। গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সিপিডি তাদের বাজেট সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বাজেটের কড়া সমালোচনাও করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, এমপি রুমিন ফারহানা, সিপিডির বিশেষ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে যত আলোচনা হয় এর সবই শুধু বরাদ্দ নিয়ে। বরাদ্দের অর্থ খরচ করার পর কী ফল পাওয়া গেল তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। এ দেশে ব্যাপক দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে—এটা প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সঙ্গে আয়বৈষম্যও বেড়েছে। বেড়েছে সামাজিক বৈষম্য। এটি নিয়ে আলোচনা কম হয়। সমাজে বৈষম্যের কারণ হিসেবে তিনি ভর্তুকি, করছাড়, ব্যাংকের ঋণখেলাপিদের সুবিধার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রত্যেক সরকারই নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ভুলে যায়, এ সরকারের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বাজেটে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের তেমন প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সংলাপে বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সংলাপ পরিচালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়, এবারের বাজেটে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের জরুরি সংস্কারের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে আসেনি। এ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারসংক্রান্ত সংস্কারের উদ্যোগও তেমন নেই। এসব সংস্কার ছাড়া বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন, “অর্থনীতির প্রভু হচ্ছে বাজার। এই ‘বাজার প্রভু’র চাহিদা অনুযায়ী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই মাঠ নিয়ে খেললে দুই রকম খেলাই হবে, আমরা হাওর-বাঁওড়সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাজেট তৈরি করি, বরাদ্দ দিই। তারাই বলে, দশ বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে। আর আপনারা লেকশোর হোটেল, প্রেস ক্লাব ও অফিসে চা খেতে খেতে আলোচনা করেন। মাঠের ভিন্নতার কারণে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।”

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের সমালোচনা করে এম এ মান্নান বলেন, ‘আপনারাই বইয়ে পড়ান, উন্নয়নের পথে বৈষম্য তৈরি হয়। কিন্তু এ ধরনের বৈষম্য দূর করতে বাজেটের মাধ্যমে বিশাল সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। অবকাঠামো যেগুলো বানাচ্ছি, গ্রামাঞ্চলে স্কুল, ব্রিজ, কালভার্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্র এগুলোর মধ্য দিয়ে আমরা বৈষম্য দূর করব। তবে বৈষম্য পুরোপুরি নিরসন হবে না। সব দেশেই বৈষম্য রয়েছে। এমন কোনো সমাজ নেই যেখানে বৈষম্য নেই।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বলা হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি বিনিয়োগ। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দেশে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও এসেছে মাত্র সাত বিলিয়ন ডলার। রপ্তানিও লক্ষ্য অনুযায়ী অর্জিত হয়নি। তাহলে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি কোথা থেকে এলো? এত প্রবৃদ্ধি আসলে এক ধরনের বুদ?বুদ। বলা হচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, সময় এখন বাংলাদেশের। কিন্তু ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। কর্মসংস্থান হচ্ছে না। মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের কথা বলা হয়, কিন্তু ছয় ডলারের গ্যাস ৯ ডলারে কিনছে সরকার। মেগা প্রকল্পগুলোর ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি ও ব্যাংকের টাকা একটি চক্রের হাতে চলে যাচ্ছে। নতুন এই বাজেট ব্যবসায়ীবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব নয়।

সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান বলেছেন, ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা উধাও হয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজদের ধরতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রুমিন ফারহানা বলেছেন, দেশে দরিদ্র ও ধনীদের মধ্যে যে বৈষম্য বাড়ছে, এটা কমানোর ব্যাপারে বাজেটে কিছুই বলা নেই।

খবরটি ইউনিকোড থেকে বিজয়ে নিতে ব্যবহার করুন কালের কণ্ঠের বাংলা কনভার্টার-

https://www.kalerkantho.com/home/converter

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা