kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

ভর্তি-নিয়োগ জালিয়াতি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ জুন, ২০১৯ ১০:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভর্তি-নিয়োগ জালিয়াতি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ ১২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় করা মামলায় ১২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযুক্তদের মধ্যে ৮৭ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় (জিআর) অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে  ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা একটি মামলা দেড় বছর তদন্ত করে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা, ব্যাংকের চাকরিসহ বিভিন্ন নিয়োগের পরীক্ষায় জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি। বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে এবং ছাপাখানা থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে এই জালিয়াতি করছিল ছয়টি চক্র। এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীসহ ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি, যাদের ৪৬ জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পলাতক আছে ৭৮ জন। এ ছাড়া জালিয়াতিতে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ শিক্ষার্থীসহ ৮৯ জনের নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাদের শনাক্ত করা গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

এদিকে ভর্তি-নিয়োগে জালিয়াতিতে অভিযুক্তরা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার ৪৭ জন এরই মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়েছে। এক দফায় ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করলেও অভিযুক্ত ৭২ শিক্ষার্থীর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ মামলায় আদালতে অভিযুক্তদের শাস্তির আবেদন করার পাশাপাশি মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় অভিযুক্ত করতে তদন্ত করছে সিআইডি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে ঢাবির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অশুভ কাজ সমর্থন করে না। তথ্য এলে আমরা উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।’

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দেড় বছর তদন্ত করে আমরা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করেছি। যাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি তাদেরটা পেলে সম্পূরক চাজর্শিট দেওয়া হবে। এই চক্রের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় তদন্ত করেও প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার (শাহবাগ) সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক নিজাম উদ্দিন জানান, সিআইডির একটি দল ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশনের উপপুলিশ (ডিসি) কমিশনার আনিসুর রহমানকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযোগপত্রটি দেখান। পরে তিনি সেটি আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠিয়ে দেন। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৬ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে।

সিআইডির তদন্তকারীরা জানান, মূল অভিযোগপত্রটি এক হাজার ৩৮০ পৃষ্ঠার। আর সাক্ষ্য-প্রমাণসহ মোট দুই হাজার ৩৮০ পৃষ্ঠা। এর সঙ্গে অপরাধ ভলিউম নামে আরো ৩৩৪ পৃষ্ঠা যুক্ত করা হয়েছে। এটি এখন পর্যন্ত দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভর্তি-নিয়োগ জালিয়াতির মামলা বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তদন্তকারী সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি আবাসিক হলে অভিযান চালায় সিআইডি। শহীদুল্লাহ হল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক মহিউদ্দিন রানা ও অমর একুশে হল থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মতো দেখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে পরীক্ষা চলাকালে কানে আরেকটি ডিভাইস রাখা পরীক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষার হল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ভর্তীচ্ছু পরীক্ষার্থী ইশরাক হোসেন রাফিকে। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর শাহবাগ থানায় করা মামলাটি তদন্ত করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সুপার (এএসপি) সুমন কুমার দাশ।

তদন্তকারীরা তথ্য পান, মূলত দুইভাবে জালিয়াতি হয়। একটি চক্র প্রেস থেকে প্রশ্ন ফাঁস করে। অন্যটি পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত সমাধান করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করে। প্রশ্নপত্র ফাঁসচক্রের মাস্টারমাইন্ড নাটোরের ক্রীড়া কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান ইসামী, রাজধানীর ইন্দিরা রোডের একটি প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর, তার আত্মীয় সাইফুলসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে ডিজিটাল ডিভাইস জালিয়াতির পাঁচ চক্রের প্রধানরা হলেন—বরখাস্ত হওয়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক সহকারী পরিচালক (বরখাস্ত) অলিপ কুমার বিশ্বাস, ৩৮তম বিসিএসে নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ইব্রাহীম মোলো, জনতা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ, ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান তাজুল ও বিএডিসির সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরে তাঁদের সবাই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

খবরটি ইউনিকোড থেকে বিজয়ে নিতে ব্যবহার করুন কালের কণ্ঠের বাংলা কনভার্টার-

https://www.kalerkantho.com/home/converter

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা