kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জুন, ২০১৯ ০৯:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) পরীক্ষায় বাজারে থাকা দুধ ও দইয়ে ব্যাকটেরিয়া, এন্টিবায়োটিক, রাসায়নিক, সিসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেলেও বিএসটিআইর পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর উপাদান ধরা পড়েনি। মাত্র দুটি নমুনা নিম্নমানের পেয়েছে তারা। সরকারি সংস্থাটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গতকাল রবিবার হাইকোর্টে দাখিল করেছে।

এদিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়া ঢাকায় যারা প্যাকেটজাত তরল দুধ ও দই বাজারজাত করছে তাদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। বিএসটিআইকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ তালিকা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা করছে তাদের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন।

আদালতে বিএসটিআইর আইনজীবী বলেছেন, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সংস্থাটির নেই। এগুলো দেখার দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। তা ছাড়া এসব দেখার মতো পর্যাপ্ত বাজেটও নেই বিএসটিআইর। এমন বক্তব্যে আদালত অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লাইসেন্স দেওয়ার এখতিয়ার থাকলে বেআইনিভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে না কেন? বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়া কিভাবে বাজারজাত হচ্ছে? আর বাজেট নেই বলে আপনাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই? জনস্বার্থ উপেক্ষিত থাকবে? মানুষ কি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য খাবে?’ একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। আগের তালিকা দাখিল করুন। এর যা করার আমরা করব।’

এর আগে হাইকোর্ট গত ১৫ মে এক আদেশে ২৩ জুনের মধ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গাভির দুধ ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গো-খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান নিরূপণ করে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়।

গতকাল বিএসটিআই এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করলেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সময় চেয়েছে। আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

বিএসটিআইর আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান বলেন, দেশের আটটি বিভাগ থেকে ৩০৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এগুলোর মধ্যে ২৫২টি দইয়ের নমুনা, ৩৫টি গুঁড়া দুধের নমুনা এবং ১৮টি পাস্তুরিত ও ইউএসডি দুধের নমুনা। এর মধ্যে ঢাকা ও সিলেট থেকে সংগৃহীত দুটি নমুনা নিম্নমানের পাওয়া গেছে। তবে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেন, ‘এনএফএসএলের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসীর পরীক্ষায় ধরা পড়ল। কিন্তু আপানারা কিছু পেলেন না।’

বিএসটিআইর আইনজীবী বলেন, শাহনীলা যেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তা শিল্প এলাকার। সেখানে শৌখিনভাবে দুধ উৎপাদিত হয়। এর সঙ্গে সারা দেশের মিল নেই। তিনি বলেন, বিএসটিআই ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই নিম্নমানের নয়। তা ছাড়া শাহনীলা যেসব নমুনা নিয়েছেন তা ঢাকার কোনো অভিজাত দোকান বা শপিং মল থেকে নেননি। আদালত এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাহনীলা ৩১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন। এই তালিকায় মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব ডেইরি মিল্ক, ঈগলু ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের পণ্য সারা দেশেই পাওয়া যায়। রাজধানীর নামিদামি এলাকা ও শপিং মল থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। সুতরাং আপনি (বিএসটিআই) যা বলছেন তা সত্য নয়।’

আদেশে গবেষণা প্রতিবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসীকে বিরক্ত না করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দুধ, দই ও গো-খাদ্যে মানবদেহের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে এনএফএসএলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘গরুর দুধেও বিশেষ ভয়’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া আরো কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আদালত এই প্রতিবেদন দেখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন ও রুল জারি করেন। আদেশে দুধ, দই ও গো-খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ঘটনা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা