kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

সংসদে সরকারি দল

অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ বিএনপির ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৯ ২০:২৮ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণ বিএনপির ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে

প্রস্তাবিত বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা বলেছেন, অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের জনগণ বিএনপির ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। সে কারণে তারা মিথ্যাচার করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু জনগণ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। আর সে কারণেই বর্তমান সরকারের উপর আস্থা রেখেছে। তবে ওই আলোচনায় প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও ক্ষমতাসীন জোটের শরীক দলের সদস্যরা।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে এই আলোচনা হয়। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সরকারি দলের মেহের আফরোজ চুমকি, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী,  মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, আব্দুস সোবহান গোলাপ ও বেনজীর আহমেদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ ও সালমা ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নিয়ে মতিয়া চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের উপর উৎস কর বৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এটা তো প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রীম, এখানে হাত দিলেন কেন? এসব সঞ্চয়পত্র তো কেনেন গ্রামের বিধবা, দুস্থ ও অসহায় মহিলারা। বড় বড় ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিচ্ছেন, ঋণ মওকুফ করছেন, গাড়ি-বাড়ি কেনার সুযোগ দিচ্ছেন। অথচ পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের ওপর হাত দিলেন, এটা মানতে পারবো না। তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান।

১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের নায়ক ছিলেন জিয়াউর রহমান দাবী করে তিনি বলেন, তিনি ইনডেমনিটি আইন করে ঘাতকদের দায়মুক্ত করেছিলেন। এ দেশে ১৬০টি মদের লাইসেন্স দেয়া হয় জিয়ার আমলে। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের  পক্ষের মানুষদের নির্যাতন ও হত্যা করেন। তার আমলে ‘মানি ইন নো প্রবেলম’ নীতি চালু হয়ে, দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। কারফিউ চালু করে নির্য়াতন নিপিড়ন বাড়ান।

সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল করে স্বাধীনতা বিরোধী আদবদর রাজাকারদের বিচার শুরু করেন। কিন্তু খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তাঁর স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যার বিচার করেননি, সেই বিচারের ফাইল এখনো চট্টগ্রাম কোর্টে পড়ে আছে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি অভিযোগ করে আমরা নাকি খালেদা জিয়াকে জেলে মারতে চাইছি! বেগম জিয়াকে মারতে যাবে কে? 

তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বিএনপি আমলে বিদ্যুতের চিত্র ছিল শুধু খাম্বা আর খাম্বা। তার নেই, বিদ্যুৎ তো দুরের কথা। আর সেই খাম্বা ওয়ালারা দুর্নীতির দায়ে পালিয়ে বিদেশে বসে আছে। আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গীদের সঙ্গে তারা হাত মেলাচ্ছে। দেশের সমস্ত অগ্রগতিকে তা নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। 

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, একদিন যারা সংখ্যাগরিষ্ঠার জোরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার ঠেকাতে ইনডেমনিটি জারি করেছিলেন, সময়ের ব্যবধানে তাদের (বিএনপি) এখন সংসদে ৬-৭ জন সংসদ সদস্যও নেই। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবার জড়িত ছিল। এতিমের টাকা আত্মসাত করে খালেদা জিয়া দন্ডিত হয়ে এখন কারাগারে। অনেক জ্ঞানপাপী এসব দন্ডিত দুর্নীতিবাজদের মুক্তি চান! কিন্তু অপরাধী অপরাধীই, কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়। ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপিকে এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ভুল রাজনীতি থেকে ফেরত না আসলে মাইক্রোসকোপ দিয়েও বিএনপিকে একদিন খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রস্তাবিত বাজেটকে গণমুখী, জনকল্যাণকর অনন্য অসাধারণ বাজেট উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে শেখ হাসিনার বিকল্প একমাত্র শেখ হাসিনাই। 

নির্বাচন ও সংসদে যোগদানের বিষয়ে বিএনপি’র অবস্থানের সমালোচনা করেন খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, আপনারা এই সরকারকে অবৈধ বলেন, এই সংসদে বক্তব্য দেন, নিজেরে জন্য প্লট চান, নিজের এলাকার উন্নয়ন চান। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, যারা কৃষককে বীজ দেয় নাই, তেল দেয় নাই, তারাই আবার বলে এই সরকার অবৈধ। তিনি চোর ও দরবেশের গল্প শুনিয়ে বলেন, মানুষ বুঝে গেছে আপনার চোর ছিলেন, যার জন্য দৌঁড়ে পালিয়েছেন। এ কারণে এখন আন্দোলন করতে পারেন না, মাঠে নামতে পারেন না। মাঠে নামার শক্তি নেই। দেশের জনগণ এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং শেখ হাসিনা সরকারের পূর্ণ আস্থা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাজেট প্রণয়ন নীতির সমালোচনা করে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, গত ১০ বছর ধরে প্রবৃদ্ধি নির্ভর উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করে বাজেট প্রণয়ন করেছে। যে মডেলে সমতা ও ন্যায্যতা অনুপস্থিত। ফলে দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রকৃত অর্থে উন্নয়নের জন্য সরকারের নীতি ও কর্মসূচীর সংস্কার প্রয়োজন। বাজেটে কৃষকের সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা নেই দাবি করে তিনি বলেন, যে কৃষকরা দেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত করেছে, তাদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সমবায় ভিত্তিতে কৃষি পণ্যের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষেতমজুরদের ১৫০দিনের কাজের জন্য বিশেষ প্রকল্প নিতে হবে। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে দেশের বেকারত্ব নিরসনে কর্মসংস্থানের জন্য সুনির্দ্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম বলেন, ব্যাংকে টাকা আছে, কিন্তু লুটের জন্য নেই। এই লুটপাটের চিন্তা এখন বাদ দিতে হবে। ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ব্যাংক ঋণের সুদ এক ডিজিটে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানছে না অনেকেই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত শিল্প বিপ্লব না ঘটানো গেলে উন্নয়ন ধরে রাখা যাবে না বলেও তিনি দাবি করেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা