kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

বিশেষজ্ঞ মত

রেলে ইঞ্জিন কোচ ও বগি বাড়াতে হবে

তাফাজ্জল হোসেন   

১৯ জুন, ২০১৯ ০৯:৪৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রেলে ইঞ্জিন কোচ ও বগি বাড়াতে হবে

বাংলাদেশ রেলওয়েকে জনবান্ধব পরিবহন খাত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৪৫টি বিনিয়োগ প্রকল্প ও তিনটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এসব প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় এক লাখ ২৫ হাজার ১৮১ কোটি টাকা, যার মধ্যে বৈদেশিক প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ ৭৩ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।  ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বর্ণিত প্রকল্পসমূহের জন্য বরাদ্দ ছিল সাত হাজার ৮৪৭.৪৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ চার হাজার ৯৩৩.৬০ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—দোহাজারি-কক্সবাজার, ঢাকা-পদ্মা সেতু-যশোর, খুলনা-মোংলা, ভাঙ্গা-পায়রা, ঢাকা-চট্টগ্রাম হাই স্পিড, ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডাবল লাইন নির্মাণের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

বিগত সময়ে বন্ধ করে দেওয়া অনেক রেললাইন সংস্কার করে চালু করা হলেও ইঞ্জিন ও কোচের স্বল্পতার কারণে সেসব লাইনে পর্যাপ্তসংখ্যক ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট তথা নতুন রেললাইন নির্মাণ ও জরাজীর্ণ রেললাইন সংস্কার করা হয়েছে কিন্তু সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্তসংখ্যক ইঞ্জিন ও যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহ করে নির্মিত নতুন ও মেরামতকৃত রেললাইনে অধিকসংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করা প্রয়োজন। চলমান ট্রেনসমূহ থেকে জরাজীর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী কোচ সরিয়ে নতুন কোচ সংযোজন করা সময়ের দাবি।       

বাংলাদেশ রেলওয়ের জনবল ঘাটতি রয়েই গেছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ ছাড়া রেল সেবার মান বৃদ্ধি করা অবশ্যই কঠিন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছে ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর ডাবল লাইন নির্মাণ। কারণ নতুন রেললাইন নির্মাণ, বিদ্যমান সিঙ্গেল লাইনকে ডাবল লাইনে রূপান্তর বা যা-ই করা হোক না কেন, ঢাকা-টঙ্গীর মধ্যে রেললাইন বাড়ানো না হলে ঢাকা থেকে নতুন কোনো ট্রেন চালু করা বেশ কঠিন হবে। দূরপাল্লার ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট প্রদান নিরুৎসাহ করা যেতে পারে। সংগৃহীত নতুন কোচ দ্বারা নতুন ট্রেন চালু করার সঙ্গে সঙ্গে দূরপাল্লার ট্রেনসমূহের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত রেক বা স্পেয়ার রেক সংযোজন করা প্রয়োজন।

লেখক : সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ রেলওয়ে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা