kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে হাইকোর্টের উদ্বেগ

ফলে কেমিক্যাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০১৯ ০৯:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে হাইকোর্টের উদ্বেগ

আমসহ সব ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। খাদ্যে ভেজালের কারণে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ নির্দেশ দেন আদালত।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানির ধারাবাহিকতায় গতকাল এ আদেশ দেন আদালত।

এদিকে ফলে ফরমালিন শনাক্ত করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয়সংখ্যক (তিনটি) যন্ত্র না কেনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে আর মেশিন কেনার মাত্র তিন কোটি টাকার জন্য ভিক্ষা করতে হবে? দায়িত্বশীলরা যদি সঠিকভাবে কাজ করত তাহলে খাদ্যে ভেজালের এই অবস্থা হতো না। মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে। মানুষ না বাঁচলে এসব দিয়ে কী হবে?’

গত ২০ মে এক আদেশে ঢাকাসহ সারা দেশে ফলের বাজার ও আড়তে আমসহ যেকোনো ফল পাকাতে ও সংরক্ষণে যাতে কেউ কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না পারে তা তদারকির জন্য মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি), র‌্যাব মহাপরিচালক, বিএসটিআই চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট পরিচালককে সাত দিনের মধ্যে এই মনিটরিং টিম গঠন করতে বলা হয়। এ বিষয়ে ১৮ জুনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের পর বিএসটিআই ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তবে পুলিশ মহাপরিদর্শকের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবেদন দাখিল না করায় রাষ্ট্রপক্ষ সময় আবেদন করলে আদালত আগামী ২৩ জুনের মধ্যে পুলিশ মহাপরিদর্শককে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। ওই দিন পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। গতকাল শুনানির শুরুতেই আদালত রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও আমরা এটি পত্রিকায় রিপোর্ট দেখলাম যে আমে স্প্রে করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখে ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করুন।’ এরপর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) অভিযান পরিচালনার প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন সংস্থাটির আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আমসহ ২৬৫টি মৌসুমি ফলের নমুনা পরীক্ষা করলেও কোনো ফলেই ফরমালিন পাওয়া যায়নি।

এ সময় আদালত বলেন, ‘ফরমালিন পরীক্ষার যে মেশিন আমাদের দেশে রয়েছে তাতে সঠিক রিপোর্ট আসে না বলে শুনেছি। এ কারণে ফরমালিন পরীক্ষার জন্য আদালত থেকে চারটি মেশিন কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মেশিন কেনা হয়েছে কি না?’

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী বলেন, ‘যত দূর জানি, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডাব্লিউএফপি) পক্ষ থেকে মেশিন কেনায় সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় একটি ভ্রাম্যমাণ যন্ত্র কিনেছে। বাকি তিনটি কেনার জন্য ডাব্লিউএফপি অর্থ না দেওয়ায় কিনতে পারেনি।’

এ সময় আদালত বলেন, ‘মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে আর মেশিন কেনার তিন কোটি টাকার জন্য ভিক্ষা করতে হবে? দায়িত্বশীলরা যদি সঠিকভাবে কাজ করত তাহলে খাদ্যে ভেজালের এই অবস্থা হতো না। মানুষকে আগে বাঁচাতে হবে। মানুষ না বাঁচলে এসব দিয়ে কী হবে?’

বিএসটিআইকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ভেজালের বিরুদ্ধে আপনাদের কঠোর না হলে হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা