kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

বহাল তবিয়তে ডিআইজি মিজান

‘ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’ আরেকটি তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০১৯ ০৯:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বহাল তবিয়তে ডিআইজি মিজান

পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এরপর তিনি নিজেই ফাঁস করেছেন ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের ঘটনা। এর পরও বহাল তবিয়তে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের এই কর্মকর্তা। আলোচিত ঘটনার জন্ম দেওয়ার ১০ দিন পর আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

দেড় বছর আগে নারী কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর মিজানুর রহমানকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই সময় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। এরই মধ্যে গত ৮ জুন অনুসন্ধান থেকে রেহাই পেতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেন মিজান। ওই তথ্য নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর দুদকের ওই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু ডিআইজি মিজান রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘মিজানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মিজান প্রসঙ্গে কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আপনারা তো সবই দেখছেন; ডিআইজি মিজান, সে অলরেডি সাসপেন্ড হয়েছে। ওএসডি হয়ে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘ডিআইজি মিজানের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অ্যাডমিন অ্যান্ড অপারেশন) ড. মইনুর রহমান চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দীন কোরেশী ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার মিয়া মাসুদ হোসেন।

মরিয়ম আক্তার ইকো নামে এক তরুণীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগ রয়েছে ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বিষয়টি ফাঁস করে দেওয়ায় ওই তরুণীকে মামলা দিয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার করান তিনি। এ ছাড়া এক সংবাদ পাঠিকাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তোলপাড় শুরু হলে দুটি তদন্ত কমিটি করে পুলিশ সদর দপ্তর। দুটি কমিটিই ডিআইজি মিজানের কর্মকাণ্ডকে ‘অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলন’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে। গত বছরের শুরুতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়নি মন্ত্রণালয়। আগে তদন্ত করা পুলিশের শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে এবারও মিজানের বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত বছরই মিজানের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। গত ৮ জুন গণমাধ্যমে অডিও প্রকাশ করে মিজান দাবি করেন, তাঁর কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা এনামুল বাছির।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা