kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

আইনজীবীর মুখ থেকেই বের হল ওসি মোয়াজ্জেমের ভিডিও ধারণের কথা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ২০:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইনজীবীর মুখ থেকেই বের হল ওসি মোয়াজ্জেমের ভিডিও ধারণের কথা

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মোয়াজ্জেমের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল জামিন নামঞ্জুর করেন।

মোয়াজ্জেমের পক্ষে শুনানিতে তার আইনজীবীরা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসির কোনো আইডি থেকে ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভিডিওটি ছড়ানো হয়নি। সজল নামের এক সাংবাদিকের আইডি থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। ওসির কোনো অপরাধ নেই। তাকে জামিন দেওয়া হোক।

এ সময় ডিজিটাল আইনে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বিচারকের উদ্দেশে বলেন, মামলাটি দায়েরের পর আপনি তদন্তে পাঠান। পিবিআই তদন্ত করে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আপনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০ দিন আগে পরোয়ানা জারি করলেও ওসি পালিয়ে ছিলেন। আপনার আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে তিনি পালিয়ে ছিলেন। আইনের লোক হয়ে আইন ও আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন।

এক পর্যায়ে অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ আসামি পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক ছিলেন না। তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাননি। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছেন। হাইকোর্ট চত্বর থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু বলা হচ্ছে বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ওসি সাহেব আপনার ট্রাইব্যুনালে আসতে নিরাপত্তা পাননি। তাকে বাইরে বের হলে মিডিয়াকে ফেস করতে হয়। অনেককে ফেস করতে হয়।

এ সময় বিচারক প্রশ্ন করেন, একজন পুলিশ অফিসার সিকিউরিটির অভাব বোধ করেন? তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কি? আইনজীবী ফারুক বলেন, একজন ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করেছেন। আর আসামি শেয়ার  করেছে। বিচারক প্রশ্ন করেন, রেকর্ডিং কে করেছে? আইনজীবী বলেন, আসামি করেছেন। বিচারক প্রশ্ন করেন, কেন করেছেন? আইনজীবী উত্তরে বলেন, এ ধরণের মামলা অনেক সময় কম্প্রোমাইজ হয়। অনেক সময় বাদি মামলা প্রত্যাহর করে নেয়। এ কারণে ভিকটিমের সঙ্গে কথোপকথন---।
এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, আপনি তাহলে অ্যাডমিট করছেন যে ভিডিওটি ওসি সাহেব রেকর্ডিং করেছেন? এ সময় আইনজীবী বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিচারক বলেন যে, আপনি আমার প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ অথবা না বলেন। আইনজীবী তখন অন্য কথা বলেন। তিনি বলতে থাকেন, আসামিকে জামিন দেওয়া হলে তিনি পালাবেন না— ইত্যাদি ইত্যাদি। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মো. নজরুল ইসলাম শামীম জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন। ট্রাইব্যুনাল এক মিনিটের মধ্যে আদেশ দেন, জামিন নামঞ্জুর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা