kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাদানুবাদ

‘আপনি কার ব্যাগ ক্যারি করছেন’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ০৯:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাদানুবাদ

বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন এবং বগুড়া উপনির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটিতে নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক নেতা। এ নিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভূমিকার সমালোচনা করলে দুই নেতার মধ্যে মৃদু বাক্যবিনিময় হয়। ওই সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে বৈঠক পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তবে তিনি এ সময় কোনো মন্তব্য করেননি। পরে স্থায়ী কমিটির অপর এক সদস্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। গত শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা  সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত শনিবার রাতে দেড় মাস পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকের একপর্যায়ে স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এক সদস্য দলের সাম্প্রতিক ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন। বিশেষ করে বিএনপির সদস্যদের শপথগ্রহণ ও পরবর্তী পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মহাসচিবের ভূমিকার সমালোচনা করেন ওই নেতা। তিনি বলেন, ‘কিভাবে এসব সিদ্ধান্ত হয়। স্থায়ী কমিটির কেউ জানেন না। আপনি বললেন শপথ নেওয়া দলের সিদ্ধান্ত। নিজে শপথ নিলেন না। আবার বললেন, আগের নেওয়া সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এটি করে স্থায়ী কমিটিকে অপমান করা হয়েছে।’

একপর্যায়ে ওই নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আপনি কার ব্যাগ ক্যারি (বহন) করছেন? এ মন্তব্যের পর বিএনপির মহাসচিব কেন এমন মন্তব্য করা হলো, তা ওই নেতার কাছে জানতে চান। ফখরুল ওই নেতাকে বলেন, আপনি তো জাতীয় পার্টি করতেন। আপনি তো এরশাদের ব্যাগ ক্যারি করেছেন। জবাবে ওই নেতা বলেন, ‘আগে কী করেছি, সেটা মূল বিষয় নয়। এখন কী করছি, সেটা দেখার বিষয়।’ ওই সময় তারেক রহমান স্কাইপে সব শুনছিলেন। তবে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, দুই নেতার মধ্যে বাদানুবাদ চলতে থাকলে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দুজনকে থামান। তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাব না বললেও গিয়েছি। খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। ১৯৮৬ সালে শেখ হাসিনা নির্বাচনে যাবে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও তা পরিবর্তন করেছেন। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতেই পারে। আমরা নির্বাচনে যাব না বলেও গিয়েছি। শপথও নিয়েছি।’

স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হলে দলের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি হয়। ওই নেতা বলেন, যা হয়েছে, তা ভালোই হয়েছে। সবার মধ্যে ক্ষোভ ছিল।

এদিকে ছাত্রদলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। বৈঠকে তারেক রহমান জানান, এ বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তা সাবেক ছাত্রনেতাদের বলে দিয়েছেন। তাঁরা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন। আপনারা নিজ নিজ পক্ষ থেকে তাঁদের সহায়তা করেন। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে কর্মসূচি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী শনিবার আবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক হবে। সেখানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা উঠিয়ে দেওয়ার যে দাবি বিক্ষুব্ধরা করছে, তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা