kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

অবশেষে গ্রেপ্তার ওসি মোয়াজ্জেম

প্রতিবাদী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুন, ২০১৯ ০৯:১৯ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



অবশেষে গ্রেপ্তার ওসি মোয়াজ্জেম

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে অবশেষে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর থেকে ২০ দিন ধরে পালিয়ে ছিলেন তিনি। আদালতের পরোয়ানা পৌঁছানো এবং অবস্থান নিয়ে অনেক লুকোচুরির পর গত এক সপ্তাহ অভিযান চালিয়েও পুলিশ মোয়াজ্জেমকে খুঁজে পাচ্ছিল না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা যেকোনো সময় মোয়াজ্জেম ধরা পড়বেন বলে আসছিলেন। এর মধ্যেই গতকাল রবিবার সকালে উচ্চ আদালতে উপস্থিত হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি জামিন আবেদন করেন। এরপর আদালত চত্বর থেকে বের হলে কদম ফোয়ারা এলাকা থেকে শাহবাগ থানার পুলিশ মোয়াজ্জেমকে গাড়িতে তুলে নেয়।

সোনাগাজীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা একটি মামলার আসামি ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন।

গতকাল বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে শাহবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোয়াজ্জেম হোসেনকে সোনাগাজী থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে শাহবাগ থানার হাজতখানায় না রেখে থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে ‘যত্নে’ রাখা হয়। অন্য আসামির মতো তিনি কোথায় পালিয়ে ছিলেন, সে ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম আদালত থেকে জামিন নেওয়ার আশায় ঢাকায়ই ছিলেন। সবার চোখ ফাঁকি দিতে দাড়ি-গোঁফ বড় করেছেন। তিনি গতকাল সকাল ১০টার দিকে আদালতে পৌঁছেও যান। তখন পুলিশ ছাড়াও আদালতের অনেকে বিষয়টি টের পায়। জামিন শুনানি না হলে আদালত থেকে বের হয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এদিকে ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার হওয়ায় নুসরাতের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের ভাষ্য : বিকেল ৫টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘পূর্বের ওয়ারেন্টবলে সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে হাইকোর্টের কদম ফোয়ারার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সোনাগাজী থানাকে জানানো হয়েছে। যেহেতু ওই থানায় গ্রেপ্তারের পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) আছে, তাই তাদের কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা হবে। রাতেই সোনাগাজী থানায় পাঠানো হবে। এরপর তারা ঠিক করবে কোন আদালতে পাঠানো হবে তাঁকে।’ ওসিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ডিসি মারুফ বলেন, গ্রেপ্তারের পর তাঁকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। তবে তাঁকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এত স্বল্প সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি তাঁকে। আর তিনি ঢাকার নয়, ফেনীর পুলিশের পরোয়ানার আসামি। তারাই জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

পরোয়ানার আসামি হয়ে ওসি মোয়াজ্জেম এত দিন কোথায় পালিয়ে ছিলেন—জানতে চাইলে ডিসি রমনা বলেন, ‘এটা আমাদের জানা নেই। যখন তাঁর অবস্থানের খবর পেয়েছি তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

এদিকে আমাদের সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি জানান, মোয়াজ্জেমকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য ওই থানা থেকে একটি দলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মঈনউদ্দিন আহমেদ।

যেভাবে পালিয়ে ছিলেন : পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২০ দিন মোয়াজ্জেম ঢাকার আত্মীয়ের বাসায় আবার কখনো গ্রামের বাড়ির আশপাশের প্রতিবেশীর বাসায় এবং কখনো ঢাকার বাইরের অন্য জেলায় ছিলেন। গত শনিবার রাত থেকেই ওসি মোয়াজ্জেমের অবস্থান ঢাকায় বলে নিশ্চিত হয় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তিনি তাঁর এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। সকালে আদালতে আইনজীবীর চেম্বারে গেলে সেটিও টের পায় ডিবি।

শাহবাগ থানার পুুলিশের একটি সূত্র গত রাতে কালের কণ্ঠকে জানায়, থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘আলাপচারিতায়’ ওসি মোয়াজ্জেম কিভাবে পালিয়ে ছিলেন সেটা জানান। তিনি প্রথমে ঢাকার কল্যাণপুরে তাঁর এক খালার বাসায় ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে টের পেয়ে গত ১০ জুন তিনি সেখান থেকে সটকে পড়েন। এরপর যান কুমিল্লায়, যেখানে তাঁর নিজের বাড়ি আছে। তিনি নিজের বাড়িতে না উঠে চান্দিনায় খালাতো ভাই আসাদুজ্জামানের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। এই আসাদুজ্জামান চান্দিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত)। এ তথ্য পুলিশ পেয়ে চান্দািনায়ও অভিযানে যায়। টের পেয়ে গত শুক্রবার রাতে ওই বাসা থেকে ঢাকায় চলে আসেন মোয়াজ্জেম। এরপর দূর সম্পর্কের আত্মীয় ও বন্ধু খায়রুল ইসলামের বাসায় ওঠেন। সেখান থেকেই গতকাল আদালতে যান।

খায়রুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মোয়াজ্জেম শনিবার রাতে ঢাকায় তাঁর বাসায় ছিলেন। জামিনের জন্য তিনি ঢাকায় ঘুরছিলেন।

যেভাবে গ্রেপ্তার হন : মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া শাহবাগ থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, যেহেতু তিনি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাই গ্রেপ্তারের সময় তাঁকে সম্মান দেখানো হয়েছে। তিনি মোয়াজ্জেমকে বলেন, ‘স্যার, আপনি গ্রেপ্তার। ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট।’ এটা শুনে তাৎক্ষণিক মোয়াজ্জেমের মুখ কালো হয়ে যায়। তিনি কিছুটা আতঙ্কিতও ছিলেন। তবে তিনি মুখে কোনো কথা না বলে শুধু মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি দিয়ে ধরা দেন। এরপর শাহবাগ থানার পুলিশের গাড়িতে (পিকআপ) করে তাঁকে নেওয়া হয় শাহবাগ থানায়। সেখানে পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে নেওয়া হয় তাঁকে। একটি চেয়ারে বসতে দেওয়া হয় মোয়াজ্জেমকে। তখন তিনি ঘামছিলেন। কিছুটা অসুস্থ লাগছিল তাঁকে। তবে কথা বলছিলেন না। কেউ তাঁকে তখন কোনো বিষয়ে প্রশ্নও করেনি।

সরেজমিনে শাহবাগ থানায় গিয়ে পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে দরজা বন্ধ দেখা যায়। একপর্যায়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মোয়াজ্জেমকে বিমর্ষ অবস্থায় চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে গ্রেপ্তারের খবরে সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় করেন। তবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা ওসি মোয়াজ্জেমের ছবি তুলতে দেননি। তাঁরা অনুরোধ করে বলেন, থানায় আসামির ছবি তোলা যায় না। আদালতে নেওয়ার সময় যেন সাংবাদিকরা ছবি তোলেন।

ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সবার চোখ ফাঁকি দিতে মোয়াজ্জেম দাড়ি ও গোঁফ বড় করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আদালত থেকে জামিন নেওয়া। মোয়াজ্জেমের সাবেক গাড়িচালক (ব্যক্তিগত) মো. জাফর শাহবাগ থানার সামনে কালের কণ্ঠকে বলেন, জামিনের জন্য তিনি (মোয়াজ্জেম) এসেছিলেন হাইকোর্টে। সঙ্গে জাফরও ছিলেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের চেম্বারে যান। সেখান থেকে জামিনের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনটির নম্বর পড়ে ৪২৭৭০। দুপুর ১টার দিকে আদালত থেকে শুনানির তারিখ পিছিয়ে কাল সোমবার দিলে তিনি চলে আসেন। বিকেল ৩টার পর আদালত থেকে বের হন মোয়াজ্জেম। এরপর সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

আগাম জামিনের আবেদন এখন অকার্যকর : বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম ও বিচারপতি খিজির হায়াতের আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী সালমা সুলতানা। এ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য গতকাল বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির অনুমতি চেয়ে আবেদন জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মো. মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, আজ (রবিবার) দুপুর ১টার দিকে আদালত মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে ওসি মোয়াজ্জেমের আগাম জামিনের আবেদন কার্যতালিকায় আনতে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। আদালত অনুমতি দিলে তিনি আজই সম্পূরক কার্যতালিকা করে শুনানির আরজি জানান। কিন্তু আদালত আগামীকালের (সোমবার) কার্যতালিকায় থাকবে বলে জানিয়ে দেন।

মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী সালমা সুলতানা বলেন, আগাম জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। আগামীকাল (সোমবার) এই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য কার্যতালিকায় থাকবে বলে জানিয়েছেন আদালত। কিন্তু তিনি (মোয়াজ্জেম হোসেন) গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ায় এই আবেদনের আর কার্যকারিতা থাকল না।

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে ওই মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার মা গত ২৭ মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নুসরাতকে থানায় ডেকে নিয়ে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে গত ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অধ্যক্ষের অনুসারীরা। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যায় নুসরাত। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে ২৯ মে ফেনীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার পরই তার জবানবন্দির (ওসির কাছে দেওয়া) বিষয়টি সবার সামনে আসে। এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পিবিআই গত ২৭ মে প্রতিবেদন দাখিল করে, যেখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়। ওই দিনই সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে সোনাগাজী থানা থেকে গত ১০ এপ্রিল মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলাসহ আসামিদের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটির সুপারিশে গত ৮ মে তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে রংপুরে সংযুক্ত করা হয়। গত ১২ মে তিনি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে যোগদান করেন। এর পর থেকে গত এক মাস তাঁর অবস্থান নিয়ে মুখ খোলেননি পুলিশ কর্মকর্তারা। কিছুদিন পর মোয়াজ্জেম লাপাত্তা বলে জানান রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ঈদুল ফিতর (এক সপ্তাহ) পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের কোনো ইউনিট পরোয়ানা পায়নি বলে দাবি করে। ৩১ মে পরোয়ানা পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেলেও ফেনীর ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী মনিরুজ্জামান গত ৩ জুন পরোয়ানা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। গত ৯ জুন রংপুরের ডিআইজিও পরোয়ানা পেয়েছেন বলে জানান। আর গত বৃহস্পতিবার যশোরের গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় কোতোয়ালি থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পৌঁছায়। পরোয়ানা জারির পরও ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের গড়িমসি এবং অবস্থান নিয়ে লুকোচুরির ঘটনায় সচেতন নাগরিক মহল থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ ওঠে।

এমন পরিস্থিতে গত সোমবার থেকেই ঢাকা ও ঢাকার বাইরে মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে ফেনীর পুলিশের একটি দল। তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়। দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন, অভিযানে মোয়াজ্জেমকে পাওয়া যায়নি। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মোয়াজ্জেম পালিয়ে থাকায় দেরি হচ্ছে। যেকোনো সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে।

নুসরাতের পরিবারের স্বস্তি প্রকাশ : ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর জেনে নুসরাতের পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ব্যারিস্টার সুমনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে বলে জানান আমাদের ফেনী প্রতিনিধি।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার মেয়ে হত্যার বিচারের দায়িত্ব নিয়েছেন। উনার কারণে নুসরাত হত্যা মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে।’

নুসরাতের মা বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম আমার মেয়ের হত্যাকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছে। অবৈধভাবে ভিডিও ধারণ করেছে। আমরা এর আগেও ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার চেয়েছি। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

বড় ভাই ও নুসরাত হত্যা মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘ওসি মোয়াজ্জেম নুসরাতকে তাঁর অফিসে নিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলেছেন ও নাজেহাল করেছেন, যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে পুলিশের গ্রহণযোগ্যতা আরো বেড়ে গেছে।’

ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করার পাশাপাশি শাস্তি দাবি করেছেন।

নুসরাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা