kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে থাকতে হবে

সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদে প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ০৯:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে থাকতে হবে

ফাইল ফটো

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর জন্য সেনাবাহিনীতে দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস, নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা ও আনুগত্য বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৯ এর সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য এর নেতৃত্ব যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করতে হবে।’

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গতকাল থেকে শুরু হয় সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৯ চলবে পাঁচ দিন ধরে। এ পর্ষদে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ অফিসাররা সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পদোন্নতি পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী সকালে সেনা সদরে পৌঁছলে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসসচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর ১৯টি অভ্যুত্থানের ঘটনা তুলে ধরেন। ১৯৮১ সালে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন দেশে ফিরলাম তখন বলেছিলাম এই আত্মঘাতী অবস্থা আমরা চাই না। দেশের সর্ব ক্ষেত্রে শান্তি চাই। মনোবল ছিল দেশে ফিরেছিলাম। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই আমার মূল শক্তি।’

বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের একটা অর্জন।’

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর করা প্রতিরক্ষা নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার দূরদৃষ্টি ছিল। দেশের সেনাবাহিনী কেমন হবে সেই চিন্তাতেই তিনি নীতিমালা তৈরি করেছিলেন।’ ফোর্সেস গোল ২০৩০ ওই নীতিমালার ভিত্তিতেই প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন চিত্র তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলে থাকার সময়ই তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। কোন খাতে কী ধরনের উন্নয়ন করা হবে পরিকল্পনাতে সে সব বিষয় ছিল। আগামী অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.১৩ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে দশমিক ২০ ভাগ হবে। পরবর্তী সময়ে দুই অঙ্কে নিয়ে যাব।’

মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রবৃদ্ধি যখন বাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে তার সুফল পায় সাধারণ মানুষ। মানুষ ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসছে। পাঁচ কোটি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে আমরা অগ্রগামী। এবারের ওআইসি সম্মেলনে আমাদের নারীর ক্ষমতায়নের মূল্যায়ন হয়েছে এবং প্রশংসা করেছে।’

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা