kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বিএসটিআইয়ে লেনদেনের তথ্য পেলে সোজা জেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৭ জুন, ২০১৯ ০৮:৫৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিএসটিআইয়ে লেনদেনের তথ্য পেলে সোজা জেলে

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনে (বিএসটিআই) পণ্যের মান পরীক্ষার বিষয়ে হাইকোর্ট বলেছেন, এ রকমও অভিযোগ আছে যে পরীক্ষার আগে লেনদেন হয়। টাকা না দিলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না। এজাতীয় তথ্য পেলে দুদকে না পাঠিয়ে সোজা জেলখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আদালত আরো বলেন, অভিযোগ আছে, আদালতের আদেশের পর দুর্নীতিবাজদের রেট আরো বেড়ে যাচ্ছে। এটাও বলা হচ্ছে যে আদালতের আদেশ তাদের রেট বাড়াতে সাহায্য করছে।

এদিকে নিম্নমানের ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়সহ সব জায়গায় সারা বছর (ছুটির দিনসহ) অভিযান পরিচালনা করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসিআরপি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ভোক্তারা যাতে অভিযোগ জানাতে পারে সে জন্য দুই মাসের মধ্যে একটি হটলাইন চালু করতে ডিএনসিআরপিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই হটলাইন চালু না হওয়া পর্যন্ত একটি মোবাইল ফোন নম্বর (০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮) ছুটির দিনসহ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় দফায় দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাওয়া নিম্নমানের ২২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত বলেন, ‘আমরা নতুন করে আদেশ দিচ্ছি না। আগের আদেশ অনুযায়ী এসব পণ্য প্রত্যাহার করতে হবে।’ এ ছাড়া যেসব পণ্য মান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সেসব পণ্যসহ সব পণ্যের মান নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এক রিট আবেদনের ধারাবাহিকতায় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি পণ্য নিয়ে রিট আবেদনটি করেছিল ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনসাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)। আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ১৯ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।

গতকাল রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফরিদুল ইসলাম, ডিএনসিআরপির পক্ষে ছিলেন কামরুজ্জামান কচি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। এ ছাড়া এসিআইয়ের পক্ষে ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান এবং প্রাণ গ্রুপের পক্ষে ছিলেন এম কে রহমান।

হাইকোর্টের নির্দেশে গতকাল সকালে আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন করেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। ওই সময় তাঁর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার কামাল-উল আলম, অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও ব্যারিস্টার ফরিদুল ইসলাম। আইনজীবীরা বিএফএসএর অভিযান পরিচালনার তথ্য তুলে ধরে বলেন, আদালতের আদেশ মেনে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদন আকারে আদালতে উপস্থাপন করা যায়নি। এরপর শুনানি শেষে বিএফএসএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জারি করা আদালত অবমাননার আবেদন শর্তসাপেক্ষে নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন আদালত। আদেশে বলা হয়, ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সারা বছর অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং এ বিষয়ে সময়ে সময়ে আদালতকে অবহিত করতে হবে।

‘আইনজীবী মক্কেলের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে কি না’ : এরপর আদালত ডিএনসিআরপির সহকারী পরিচালক মাসুম আরেফিন ও আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসানের বক্তব্য শোনেন। ওই সময় আদালত বলেন, ‘গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা আপনাদের রয়েছে। আপনারা শুধুই খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে নয়, বাসের টিকিটের দাম বেশি নিচ্ছে কি না তা দেখতে পারেন, আইনজীবী কোনো মক্কেলের (বিচারপ্রার্থী) কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে কি না, আমাদের এখানে (আদালত) কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা দেখার ক্ষমতা আপনাদের রয়েছে।’ এরপর আদালত বিএসটিআইকে সারা বছর সবখানে অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হটলাইন চালু করারও নির্দেশ দেন।

এরপর আদালত বিএসটিআইয়ের আইনজীবী কামরুজ্জামান কচির বক্তব্য শোনেন। বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দাখিল করে বলা হয়, ৫২টি পণ্যের মধ্যে ৪২টির বিষয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান পুনরায় মান পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠায় বিএসটিআইয়ের কাছে। সেখানে ২৬টি পণ্যের মান যথাযথ পাওয়া গেছে। বাকি ১৬টির মান এখনো নিম্ন। এসব পণ্যের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০৬টি পণ্যের মধ্যে বাকি ৯৩টি পণ্যের পরীক্ষা প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭১টির মান সঠিক পাওয়া গেছে। ২২টির মান নিম্ন। এর মধ্যে ১৩টির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। আর আটটির কোনো লাইসেন্স না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওই সময় আদালত ওই ২২টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। তখন আইনজীবী বলেন, এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের জন্য এরই মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আদালত বলেন, ‘ওরা তো নিজেরাই নমুনা সরবরাহ করেছে। তাদের পণ্য মান উত্তীর্ণ হলেও বাজারে ছাড়ার পর মান ঠিক আছে কি না তা দেখার জন্য নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন ও মান পরীক্ষা করবেন।’ 

হাইকোর্ট গত ১২ মে এক আদেশে নিম্নমানের ৫২টি পণ্য বিক্রি বন্ধ ও জব্দ করতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিএফএসএ ও ডিএনসিআরপিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকটি তারিখে বিভিন্ন আদেশ দেন আদালত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা