kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

নান্দাইলে দুস্থ মায়েদের সাড়ে ৫ টন চাল গায়েব!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৭ জুন, ২০১৯ ০৮:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নান্দাইলে দুস্থ মায়েদের সাড়ে ৫ টন চাল গায়েব!

ময়মনসিংহের নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) প্রকল্পের অধীনে দুস্থ মায়েদের জন্য বরাদ্দ পাঁচ কেজি করে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ফলে ২৮০ উপকারভোগীকে সাড়ে পাঁচ টনের বেশি চাল কম দেওয়া হয়। সরকারের ৩০ কেজি চালের বস্তা খোলার নিয়ম না থাকলেও গতকাল রবিবার পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, বস্তা খুলে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। জাহাঙ্গীরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম মণ্ডল বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, চাল সংগ্রহ ও বিতরণে  পরিবহন খরচ তুলতে এটা করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা দরের ৭৬ বস্তা চাল চেয়ারম্যানের ভাতিজার দখল থেবে উদ্ধার করছে প্রশাসন। ইউনিয়ন পরিষদের মৎস্য ভবনের কক্ষ থেকে চালগুলো জব্দ করা হয়। কক্ষটি চেয়ারম্যানের ভাতিজা নিজের দখলে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন। এ খবরে এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

গতকাল নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ২৮০ জন দুস্থ মায়ের জন্য ঈদের আগের ভিজিডি প্রকল্পের বরাদ্দের প্রায় ৩৫ টন চাল বিতরণ করা হয়। এ সময়  দেখা যায়, বস্তাগুলোর ওপরে লেখা ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’। কিন্তু এ লেখাসংবলিত পাটের বস্তাগুলো খুলে রাখা হয়। এ ঘটনায় দুস্থ মায়েরা ক্ষুব্ধ হলেও চেয়ারম্যানের লোকজনের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, উপকারভোগীদের মধ্যে চার মাসের বরাদ্দ ১২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় সেখানে পাটের বস্তা খুলে রাখার বিষয়টি দেখাশোনা করছিলেন জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম মণ্ডল। বিতরণের সময় তদারকি কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, কিছু লোক সরকারিভাবে সেলাই করা বস্তা খোলার কাজে ব্যস্ত। পরিষদের সচিবও বসে বসে তা তদারকি করেন।

ইউপি ভবনের সামনে প্রায় ৩০ জনের মতো নারী উপকারভোগী অভিযোগ করে বলেন, বরাদ্দ নিতে এলে চেয়ারম্যান সাহেব তাঁদের বস্তা নিয়ে আসতে বলেন। না হলে বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে উপকারভোগীদের বলে দেওয়া হয়। হঠাৎ করে এ ধরনের নির্দেশের কারণে উপকারভোগীদের বিপাকে পড়তে হয়। তাঁদের অনেককেই দূরের গ্রামে অবস্থিত বাড়িতে গিয়ে ফের বস্তা নিয়ে আসতে হয়েছে। আবার অনেককে বাজার থেকে ২০-৩০ টাকা খরচ করে খালি বস্তা কিনে সরকারের দেওয়া বরাদ্দ বাড়িতে নিতে হয়েছে। এ অবস্থায় চাল দেওয়ার সময় পাঁচ থেকে ছয কেজি চাল কম দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ ও ভিজিডি প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দ বিতরণ করার সুবিধার্থে খাদ্য অধিদপ্তর ৩০ কেজি ওজনের বস্তা চালু করে। এসব প্রকল্পের বস্তার গায়ে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগান লেখা রয়েছে। বস্তা খুলে চাল বিতরণ করার কারণ জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মণ্ডল বলেন, পরিবহন খরচ জোগাড় করতে এই পথ অবলম্বন করতে হচ্ছে। বরাদ্দ পরিবহনের খরচ তো সরকারিভাবে দেওয়া হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই খরচে পোষায় না।’

সাংবাদিক আগমনের খবর পেয়ে ঘণ্টাখানেক পর মো. শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি নান্দাইল উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকর্তা (আরডিও) আসেন। তাঁর কাছে সরকারি বরাদ্দের বস্তা খুলে রেখে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বস্তা খোলার কোনো নিয়ম নেই। 

এদিকে বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে খবর আসে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে ঈদের আগে ভিজিএফের বরাদ্দের চাল রাখা হয়েছে। এ খবরে ইউনিয়নের তদারকি বিআরডিবি কর্মকর্তা শাহ আলম কক্ষটির তালা ভেঙে ৭৬ বস্তা চাল পান। পরে তা জব্দ করে পরিষদের সচিবের জিম্মায় রেখে আসেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিষদের ওই কক্ষটি মৎস্য বিভাগের জন্য বরাদ্দ হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে নিয়েছে চেয়ারম্যানের ভাতিজা মিশু মণ্ডল।

চেয়ারম্যানের ভাতিজা মিশু মণ্ডল জানান, তিনি ১০ টাকা কেজির চালের একজন ডিলার। এখানে বসেই বরাদ্দ বিতরণের কাজ করেন। যে চাল জব্ধ করা হয়েছে সে চাল সম্পর্কে মিশু বলেন, ভিজিডি চাল তিনি কিনে রেখে এখানে স্টক করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা