kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

সৌরভ অপহরণের নেপথ্যে ‘প্রেম’!

আজ সংবাদ সম্মেলন সোহেল তাজের

এস এম রানা, চট্টগ্রাম    

১৭ জুন, ২০১৯ ০৮:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৌরভ অপহরণের নেপথ্যে ‘প্রেম’!

ইফতেখার আলম সৌরভ

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে ‘অপহরণের’ আট দিন পরও ইফতেখার আলম সৌরভকে উদ্ধার করতে পারেনি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। সৌরভের বর্তমান অবস্থান বা তিনি জীবিত আছেন কি না এমন কোনো তথ্য নেই পুলিশের কাছে। তবে ‘অপহরণের’ ঘটনার নেপথ্যে সৌরভের সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের ঘটনার জের রয়েছে বলে জেনেছে পুলিশ।

৯ জুন বিকেলে পাঁচলাইশ থানার আফমি প্লাজার পাশের সড়ক থেকে নীল রঙের গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তি আইটির ছাত্র সৌরভকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে পাজেরো জিপে তুলে নেয়। এরপর থেকেই সৌরভ নিখোঁজ। তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর বাবা ইদ্রিস আলমের। তিনি ১০ জুন পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

নিখোঁজ সৌরভ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের ভাগ্নে। ভাগ্নে অপহরণের ঘটনায় সোহেল তাজ তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে স্ট্যাস্টাস দেওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি তদারকি শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর নিবিড়ভাবে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। আর সৌরভকে উদ্ধারের কড়া তাগাদা দেওয়া হয় নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমানকে। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে পুলিশ কমিশনার নগর পুলিশের একদল চৌকস কর্মকর্তাকে ‘অপহরণ’ রহস্য উন্মোচনের দায়িত্ব দেন। সেই ধারাবাহিকতায় পুলিশ দল অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই দলটি অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে কিছু তথ্য পেয়েছে। সৌরভকে যে মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার নাম করে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল, সেই নম্বরসহ পারিপার্শ্বিক আরো কিছু মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে পুলিশ ‘অপহরণের’ সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে জানতে পেরেছে। তাদের নাম ও পরিচয় পুলিশের হাতে এসেছে। পরে সেই তথ্য নগর পুলিশ কমিশনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন। এর পরই এ নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়।

এমন তোলপাড়ের মধ্যেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ। তিনি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গতকাল প্রকাশিত কালের কণ্ঠ’র সংবাদের অংশবিশেষ যুক্ত করে ঘোষণা দিয়েছেন, আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবেন। তাঁর এমন ঘোষণার পরপরই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়। রবিবার থেকে সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলম ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। শারীরিকভাবে তিনি কিছুটা অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

ইফতেখার আলম সৌরভ নামে আইটির এই ছাত্রের অপহরণের পেছনে কী এমন লুকিয়ে আছে? প্রশ্ন করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমানকে। রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেছেন, ‘কাজটি কঠিন। একটু সময় লাগছে। আমরা কাজ করছি। আমরা সৌরভকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি।’

সৌরভ অপহরণ রহস্য উন্মোচনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ঘটনায় যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে বা যারা জড়িত বলে জেনেছেন তাদের বিষয়ে আপাতত মুখ খুলছেন না।

সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলমের অভিযোগ, সৌরভের সঙ্গে একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যবসায়ী কাউকে দিয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সৌরভের পরিবার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুসারে, মেয়ের প্রেমের বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ওই ব্যবসায়ী তাঁর মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন। কিন্তু মেয়ে সেখানে সংসার করতে অনিচ্ছুক। আর এর জন্য সৌরভকে দায়ী করে পরিবারটি। তাঁদের ধারণা এ কারণেই সৌরভকে অপহরণ করা হয়েছে। আর এর পেছনে আছে প্রভাবশালীদের হাত।

পুলিশ বলছে, যে পাজেরো গাড়িটি ব্যবহার করে সৌরভকে ‘তুলে’ নেওয়া হয়েছে সেই গাড়ির নম্বর উদ্ধার, মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা, মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী ব্যক্তির পরিচয়, ভুয়া ঠিকানায় নিবন্ধন করা মোবাইল ফোনের নম্বর চিহ্নিতকরণসহ তথ্যাদি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এরপর পুরো বিষয়টি রবিবার সকালে উপস্থাপন করা হয় নগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবুর রহমানের কাছে। শেষে পুলিশ কমিশনার এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু বিকেল পর্যন্ত সেই ‘উচ্চ পর্যায়’ থেকে কোনো নির্দেশনা এসেছে কি না সেটা জানা সম্ভব হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌরভকে ‘তুলে’ নেওয়ার ঘটনার নেপথ্যে ‘প্রেমের ঘটনা’ ছাড়া অন্য কোনো কারণ এখনো পর্যন্ত তাঁরা খুঁজে পাননি। বরং প্রেমের কারণেই তুলে নেওয়ার তথ্য মিলেছে।  এদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ এ বিষয়ে কথা বলতে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। দুপুর ১২টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা