kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

জয়শঙ্কর-মোমেন বৈঠক, তিস্তা চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিল বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক    

১৬ জুন, ২০১৯ ০৯:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জয়শঙ্কর-মোমেন বৈঠক, তিস্তা চুক্তির কথা মনে করিয়ে দিল বাংলাদেশ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতীক্ষার কথা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। একই সঙ্গে তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়েও ড. জয়শঙ্করের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সদ্ভাব ও সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ‘পরিণত সংবেদনশীলতা’ প্রদর্শন করেছে।

ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে। ‘কনফারেন্স অন ইন্টারেকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স মেজার্স ইন এশিয়া (সিকা)’ শীর্ষক সম্মেলনের ফাঁকে ওই বৈঠক হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ১৯৭১ সালে ভারতে শরণার্থী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের প্রথম সফরে ভারত যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

ড. মোমেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে ড. এস জয়শঙ্কর দ্রুতই একটি সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান গভীর হৃদ্যতাপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো সম্প্রসারিত হবে বলেও আশার কথা জানান তাঁরা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দেশের পূর্বমুখী অর্থনৈতিক কূটনীতির প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশের অনন্য সম্ভাবনা ও ভূ-কৌশলগত সুবিধার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, বিমসটেককে শক্তিশালী করলে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। আঞ্চলিক সংযোগের ব্যাপারে ভারতের গুরুত্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা এবং পরিপক্ব ও প্রশংসনীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো সমাধান করেছেন। তিনি আরো বলেন, তাঁরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে যে অভূতপূর্ব উচ্চতায় উন্নীত করেছেন তা বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে প্রায় ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগ আকর্ষণে ড. এস জয়শঙ্করের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপনেও ভারতকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা