kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

সড়কে শৃঙ্খলা : ১১১ সুপারিশ নিয়ে আজ বৈঠক

বড় বাধা সমন্বয়হীনতা ও তহবিল সংকট

পার্থ সারথি দাস   

১৬ জুন, ২০১৯ ০৮:৪৫ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বড় বাধা সমন্বয়হীনতা ও তহবিল সংকট

প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ না থাকা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং ধারাবাহিক তদারকির অভাব সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সংকট সামনে রেখে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১১১ সুপারিশ বাস্তবায়নের কর্মকৌশল চূড়ান্ত করতে আজ রবিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হবে। তার আগে গত ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পেশ করা হয় সর্বশেষ প্রণীত ১১১ সুপারিশ।

ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে টানা আট দিন আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা। ছয় মাস পর গত ফেব্রুয়ারিতে আবারও একই দাবিতে ঢাকার সড়কে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা।

এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সক্রিয় হয়। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে সব উদ্যোগে ভাটা পড়ে। বিভিন্ন সংস্থার তোড়জোড়ের পরও নিরাপদ হয়নি সড়ক।

বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে, গত ৩০ মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর প্রতিদিন গড়ে সড়কে প্রাণ হারিয়েছে ১৭ জন। গত বছর নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১৭টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে হেলমেট পরিধান ছাড়া অন্য সব নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো তদারকির অভাবে উপেক্ষিত রয়েছে বেশির ভাগ নির্দেশনা।

এ অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১১১ সুপারিশ প্রণয়নের পর বিশেষজ্ঞরা তা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে মনে করছেন সমন্বয়কে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামছুল হক গতকাল শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ বছর ধরে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদে অসংখ্য সুপারিশ চূড়ান্ত হয়েছে। সুপারিশের পর সুপারিশ করা হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এর বড় কারণ, কোনো সংস্থা দায় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী নয়। তহবিল না থাকাও এর পেছনে আরো একটি কারণ। বাস্তবায়নে ঘাটতি কোথায় তা চিহ্নিত করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিলে সুপারিশ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা ৩২টি সংস্থার সমন্বয়হীনতা। কার কতুটুকু দায় তা নিরূপণ করা আছে। সেটি সমন্বয় করবে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), কিন্তু সমন্বয় আর হয় না।’ 

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১১১ সুপারিশের মধ্যে ২০ নম্বর সুপারিশে বলা হয়েছে, জেব্রাক্রসিং উঁচু করে তৈরি করতে হবে; বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে। কারণ বর্তমানে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে জেব্রাক্রসিং রং দিয়ে চিহ্নিত করা থাকলে সেখানে গাড়িচালকরা গতি কমায় না। তা উঁচু করা হলে গতিরোধকের কাজ করবে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হলে সওজ অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, এলজিইডির মধ্যে সমন্বয় জরুরি। কিন্তু বর্তমানে ঢাকায় জেব্রাক্রসিংয়ের বিষয়টি দেখভাল করছে শুধু সিটি করপোরেশন। সড়কের কোন অংশ কোন সংস্থার, দায় কতটুকু, তহবিল কোন সংস্থা দেবে, এসব বিষয় নিরূপণ করে ধারাবাহিক তদারকিতে আনতে হবে।

৪২ নম্বর সুপারিশে বলা হয়েছে, স্কুলের পাশের সড়কে যানবাহনের গতিবেগ ৪০ কিলোমিটারের বেশি হলে স্কুল জোনিং করতে হবে। স্কুল কমিটি শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য সাহায্যকারী রাখবে। আর পারাপারের জায়গাটি চিহ্নিত করা থাকবে। ডিটিসিএসহ বিভিন্ন সংস্থা এটি বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এর জন্য তহবিল কে দেবে তা নিরূপণ করা হয়নি।

ঢাকায় কম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার জন্য এখনো বরাদ্দ মেলেনি। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে বড় বাধা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতা, পুলিশ ও বিআরটিএর সুবিধাবাদী কর্মকর্তারা। তাদের দুর্ভেদ্য চক্র ভেঙে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা বারবার ভেস্তে গেছে। এ অবস্থায় পরিবহন শ্রমিক নেতা সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রণয়ন করা সুপারিশমালা নিয়ে আজ হতে যাচ্ছে বৈঠক।

শাজাহান খানের সঙ্গে গতকাল বিকেলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সুপারিশমালা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছি। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যবস্থা নেবে। এ জন্য তারা বৈঠক করছে। এ বৈঠকে আমরা কমিটির সদস্যরা থাকব না। আমি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি। তিনি আমাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করছি।’

বিআরটিএর পরিচালক অপারেশন সীতাংশু শেখর বিশ্বাস আজকের বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোন সুপারিশগুলো এখন এবং কোন সুপারিশগুলো পরে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিয়ে আজ আলোচনা হবে।’

বিষয়টির অন্যতম অংশীদার বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান এবং সংস্থার সড়ক নিরাপত্তা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব ই রব্বানী বৈঠক চলার সময় ঢাকার বাইরে অবস্থান করবেন। সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সদস্য রোকেয়া প্রাচী গতকাল বিকেলে জানান, বৈঠকের বিষয়ে তিনি কোনো বার্তা পাননি।

গত এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এসব সুপারিশ তৈরি করা হয়। পরে তা জনমত নেওয়ার জন্য বিআরটিএর ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছিল। গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২০ জন মতামত দেয়। এরপর তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেন কমিটির সদস্যরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা