kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

প্রস্তাবিত বাজেট জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না : বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ জুন, ২০১৯ ১০:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রস্তাবিত বাজেট জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না : বিএনপি

আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে উচ্চাভিলাষী অভিহিত করে বিএনপি বলেছে, এতে সাধারণ মানু্ষ চাপে পড়বে, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরো বাড়বে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের ওপর করের চাপ আরো বেড়ে যাবে। প্রস্তাবিত বাজেট জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না।

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের পরদিন গতকাল শুক্রবার বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন মন্তব্য করেন। বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শুরুতেই তিনি বলেন, অনির্বাচিত এ সরকারের বাজেট দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই। জনগণের বিরুদ্ধে এ বাজেট দেওয়া হয়েছে। এ বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়বে। এককথায় বলা যায়, এতে সামগ্রিকভাবে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলোর কিছুই আসেনি। তাদের প্রধান সমস্যা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—কোনোটারই সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এককথায় এ বাজেট জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে না, জনগণ নির্বাচনের মতো এই বাজেটও গ্রহণ করবে না।

বাজেটের চিত্র সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরে অর্থনীতির এ অধ্যাপক বলেন, কল্যাণ রাষ্ট্রের নীতি বিসর্জন দিয়ে সরকার বাজেট প্রণয়নে নীতিগর্হিতভাবে অরাজকতার আশ্রয় নিয়েছে। তারা দেশকে ঋণনির্ভর বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দকৃত ব্যয়ের গুণগত মান, মেগা প্রকল্পের ব্যয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে বাজেটে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

ঘাটতি বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে সুদ-আসল পরিশোধ করতেই বাজেটে বিশাল ব্যয় হচ্ছে। আর ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরকারি চাকরিতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি, গণহারে পদোন্নতির মাধ্যমে বেতন কাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি। এ অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য রাজস্ব আয়ের ২০.৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাকে কোনো অবস্থাতেই যুক্তিযুক্ত বলা যাবে না।

ঋণ বিষয়ে সময়সীমা পরিবর্তনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্প্রতি ঋণ হিসাবের সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঁচ বছরের স্থলে তিন বছরের মাথায় ব্যালান্স শিট থেকে ঋণ অবলোপন করা হবে। এ এক অদ্ভুত ব্যাপার। এর মানে হলো অ্যাকাউন্টিং ট্রিটমেন্ট দিয়ে দ্রুত ঋণ সাফ করে দেওয়া যাবে। ব্যালান্স শিট আরো আকর্ষণীয় হবে। এটা গোঁজামিল দেওয়া, যা মোটেও কাম্য নয়। আসলে বিরাট আকারের খেলাপি ঋণ জনগণের দৃষ্টির আড়াল করতে এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় মোবাইল ফোন সেট ও সিমের ওপর কর বৃদ্ধির সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বাজেটে একদিকে সোনার দাম কমানো হয়েছে, যা কিনা সমাজের সুবিধাভোগী একটা শ্রেণি ব্যবহার করে। অথচ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। সেই মোবাইল ফোনসেট, সিম ও সার্ভিসের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সিগারেটের ওপর শুল্ক না বাড়িয়ে সিগারেট কম্পানির আয় ৩১ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সারা বিশ্বে ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা এক শুভংকরের ফাঁকি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সুবিধাবাদীদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে এই বাজেট দেওয়া হয়েছে।

মওদুদ আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সুবিধাভোগীদের জন্য এ বাজেট প্রণয়ন করেছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। বাজেটে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে যথাযথ হারে বরাদ্দ বাড়েনি।

আব্দুল মঈন খান বলেন, এ বাজেটের মাধ্যমে জনগণ করের বোঝা পেয়েছে। এ বাজেটে যা বর্ণনা করা হয়েছে, বর্তমান বছর ও আগামী বছর-এটা বর্তমান বছরের একটা ব্যর্থতার দলিল বলে আমি মনে করি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা দেশ পরিচালনা করছে তারা জনপ্রতিনিধি নয়, এক অলিগার্ক শ্রেণি। তারা ব্যবসা করছে, রাজনীতি করছে, নীতি প্রণয়ন করছে এবং বাস্তবায়ন করছে তাদের নিজেদের স্বার্থে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা