kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প

টাকা খরচ না করেই আরো চায় সওজ!

পার্থ সারথি দাস    

১৫ জুন, ২০১৯ ০৯:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টাকা খরচ না করেই আরো চায় সওজ!

চীন, ভারত মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের চেয়ে বাংলাদেশে সড়ক উন্নয়নে ব্যয় বেশি। এর একটি কারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই ব্যয় প্রাক্কলন। এবার সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে এমন এক প্রকল্প পাওয়া গেছে যেখানে চলতি বছরে বরাদ্দ করা অর্থ গত এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয়ই হয়নি। তবু সড়কের প্রশস্ততা ও শিডিউল হার বেড়েছে অজুহাতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ৩২ কোটি টাকা। এর পরও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে প্রকল্পের ব্যয় আরো বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

তবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এ প্রকল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভায় প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প ছক-ডিপিপি ত্রুটিপূর্ণ এবং এ ধরনের কাজ করা হলেও ভবিয্যতে সওজের প্রধান প্রকৌশলীকেও দায় নিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে দুটি দলের প্রতিবেদনের পর ডিপিপি প্রণয়নের নিয়ম চালু করেছে সরকার। তার পরও এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ডিপিপি তৈরি করে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সড়ক জোনে জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের অধীনে ১৩৮ দশমিক ৯৪৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮৮ কোটি টাকা। এখন সেটা ৫২০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা গোপালগঞ্জ সড়ক জোন থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। 

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে ৭০ কোটি টাকা। তবে গত এপ্রিল পর্যন্ত এই বরাদ্দ থেকে কানাকড়িও ব্যয় করা হয়নি। প্রকল্পে আর্থিক অগ্রগতি না থাকায় গত ২৯ মে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রকল্প কর্মকর্তারা সভায় জানিয়েছেন, চলতি বছর বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হবে না। এ অর্থ উপযোজনের মাধ্যমে অন্য প্রকল্পে দেওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রকল্পের আছে ১৭টি অংশ। সব অংশের জন্য দরপত্র আহ্বানও শেষ হয়নি।

জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি গত জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখি, ১৭টির মধ্যে ১২টি অংশের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি প্রায় ২০ শতাংশ। গত জানুয়ারিতে তিনটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। একাধিক দরপত্র আহ্বানের পর সাড়া মেলেনি। আবার দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছে। এ কারণে সময় নষ্ট হয়েছে।’

তিনি জানান, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের ১৭টি জেলা সড়ক উন্নয়নের জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ভূমি উন্নয়নের জন্য কাজ চলছে। এ জন্য ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। তিনি জানান, প্রকল্পের ১২টি অংশের কাজ চলছে। বর্ষায়ও প্রকল্পের কাজ চলবে। 

প্রকল্পটির জন্য ২০১৫ সালের রেট শিডিউল ধরে ডিপিপি তৈরি করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালের রেট শিডিউল ধরে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ কারণে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রকল্প কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন।

প্রকল্পের ১৭টি ইন্টারসেকশন উন্নয়নে প্রতিটির জন্য ৫০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সড়ক বিভাগ বলছে, বর্তমান সড়ক নিরাপত্তা নকশা অনুসারে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১৫ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিপিপি প্রণয়নকালে বিদ্যমান ৩ দশমিক ৭১ মিটার সড়ককে ৫ দশমিক ৫০ মিটারে উন্নীতকরণের জন্য ব্যয় বাড়বে। ডিপিপি প্রণয়নকালে বিদ্যমান সড়কের প্রশস্ততা ৩ দশমিক ৭১ মিটার বলা হলেও বাস্তবে বিদ্যমান সড়ক তার চেয়ে আরো কম, গড়ে ৩ দশমিক ৪০ মিটার প্রশস্ত। সড়কটি ৩ দশমিক ৪০ মিটার থেকে ৫ দশমিক ৫০ মিটারে প্রশস্ত করার জন্য ব্যয় বাড়ানো হবে।

সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই এই প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করা হয়েছে এবং ব্যয় যথাযথভাবে প্রাক্কলন করা হয়নি বলে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ। জানা গেছে, সর্বশেষ সভায় এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ডিপিপি প্রণয়নের জন্য সংস্থাপ্রধান হিসেবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা