kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্প

নিখিল ভদ্র   

২৬ মে, ২০১৯ ১৪:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্প

মাত্র ১৭ দশমিন ১২ বর্গকিলোমিটারের ছোট একটি পৌরসভা গাংনী। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা সদরে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই পৌরসভায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। দেশের মধ্যে তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকা এই পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের প্রকল্প। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই কাজ শেষ করা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের (বিসিসিটি) অর্থায়নে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় মেহেরপুর জেলার গাংনী পৌরসভার ড্রেন নির্মাণ' শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোমানা এন্টারপ্রাইজ এক কোটি টাকার এই প্রকল্পের কার্যাদেশ পায়। গত নভেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো শেষ হয়নি। ফলে এবারো বর্যা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছে পৌরবাসী।

গাংনী পৌরসভার সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পৌরসভার জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের। যে কারণে জনগুরুত্ব বিবেচনায় ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এরপর প্রকল্পটির কাজ যথাসময়ে শুরু হলেও পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামকে বরখাস্তের ঘটনায় কাজ আটকে যায়। মেয়রের দায়িত্বভার পুনরায় গ্রহণের পর কাজটি আবারো শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবারো ভারী বর্ষণে পৌরসভার অনেক এলাকাতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পৌরবাসী।

তবে এবার পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা নেই বলে দাবি করেছেন পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, এরই মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের সুবিধা পাবে নগরবাসী। আর কোথাও বিশেষ সদস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাংনী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. শামীম রেজা জানান, নির্ধারিত সময়ে না হলেও এরই মধ্যে পৌরসভার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। বিল উত্তোলনসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই কাজগুলো শেষ করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পৌরসভার ড্রেন নির্মাণ ও সোলার লাইট স্থাপনসহ নানা প্রকল্পের নামে জলবায়ু তহবিলের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ রয়েছে। বিগত দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পৌরসভাগুলো থেকে প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এমপিদের এলাকার পৌরসভা এই খাত থেকে বরাদ্দ বেশি পেয়েছে। এই তহবিল থেকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে ২১৭টি পৌরসভায় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পৌরসভা জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে পড়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গাংনী পৌরসভাসহ অন্য ১৯৩টি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকায় নেই। আর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরা, খুলনা ও বরিশাল এবং হাওরাঞ্চলে বরাদ্দ কম দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, বাংলাদেশ (এনসিসিবি)র কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান বিজয় কালের কণ্ঠকে বলেন, শুরু থেকেই জলবায়ু তহবিলের অর্থ বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নেও মনিটারিং-এর অভাব রয়েছে। ফলে প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জলবায়ু তহবিল বরাদ্দের নীতিমালা সংশোধন করতে হবে। জলবায়ু প্রশমন খাতে নয়, অভিযোজন খাতের প্রকল্পকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে বরাদ্দ প্রদানে প্রভাব থাকা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বরাদ্দ কম। কারণ প্রকল্প গ্রহণে বিদ্যমান জলবায়ু তহবিলের নীতিমালা মানা হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু তহবিলের অর্থ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। পৌরসভার ড্রেন নির্মাণের নামে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে লুটপাটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা দরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা