kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

ট্রেনের এসি আসনের টিকিট উধাও!

পার্থ সারথি দাস    

২৬ মে, ২০১৯ ০৮:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ট্রেনের এসি আসনের টিকিট উধাও!

ঢাকা থেকে রাজশাহী রেলপথে চলাচল করে চারটি আন্তনগর ট্রেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ধূমকেতু এক্সপ্রেসে। এক হাজার ১৪০টি আসনের এই ট্রেনের জন্য প্রতিদিন কাউন্টারে বিক্রি হওয়ার কথা ৫৪৫টি এবং অনলাইনে ৫৬৯টি টিকিট। বাকি ২৬টি টিকিট থাকছে বিশেষ কোটায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সার্ভারে জটিলতায় অনলাইনে অর্ধেক টিকিটও কিনতে পারেনি ক্রেতারা। তবুও গত বুধবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত চার দিনে আগাম টিকিট বিক্রিকালে কমলাপুর রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে ধূমকেতু ট্রেনের কোনো এসি টিকিট নেই বলে জানানো হয় অনবরত।

গতকাল বিকেলে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ব্যবস্থাপকের কক্ষে ধূমকেতু বা একই রুটের অন্য কোনো ট্রেনের এসি টিকিট পেতে অপেক্ষা করছিলেন নুরুর রহমান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুক্রবার থেকে বারবার কাউন্টারে দাঁড়িয়েছি। প্রতিদিন সকাল ১০টা বাজতে না বাজতেই বলেছে, এসি টিকিট নেই। তাই ব্যবস্থাপকের কাছে এসেছি। তাকেও পাচ্ছি না।’ জানা গেল, ওই সময় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম স্টেশনে বিশেষ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় একই কক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের পক্ষে ৩ জুনের একাধিক টিকিট নিতে অপেক্ষা করছিলেন এক ব্যক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, ‘১৫ দিন আগে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। এখন বলছে কাউন্টার থেকেই নিতে হবে। ব্লক করে রাখা হয়নি।’ তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইনে টিকিট ব্যবস্থাপনায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে টিকিট পাচ্ছেন বিশেষ ব্যক্তিরা। একইভাবে কাউন্টার থেকেও বিশেষ বুকিং সহকারীরা দ্রুত টিকিট কাটছেন ঘনিষ্ঠজনদের জন্য।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে শুধু ঢাকা থেকে পশ্চিমের বিভিন্ন রেলপথে চলাচলকারী ১৬টি আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবে টিকিট বিক্রিতে হয়রানি রয়েছে অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র তেজগাঁও, বিমানবন্দর, বনানী রেলস্টেশন ও ফুলবাড়িয়ায় পুরনো রেলভবনে।

তবে কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন ভিআইপিদের জন্য বা প্রভাবশালীদের জন্য টিকিট সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে না। কাউন্টার থেকেই নিতে হচ্ছে। চাহিদা বেশি থাকায় এসি টিকিট শেষ হচ্ছে খুব কম সময়ে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনলাইনে বরাদ্দ রাখা এসি কোচের টিকিট মানুষ কিনতে পারেনি। আগামী ২৭ মে থেকে অবিক্রীত টিকিট বিক্রি করার কথা।

ঢাকা-পঞ্চগড় পথে চলাচল করে একতা, দ্রুতযান ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস। গতকাল বিরতিহীন পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। তার আগে ওই রুটের দুটি ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয় গত বুধবার থেকে। এসব ট্রেনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৪৪টি আসন একতা এক্সপ্রেসে।  সমানসংখ্যক টিকিটের মধ্যে ৪৪৮টি কাউন্টারে, ৪৬৬টি অনলাইনে ও ৩০টি বিশেষ কোটায় বরাদ্দ আছে। তবে এসব ট্রেনেও বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক টিকিট বিক্রি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল আগাম টিকিট বিক্রির চতুর্থ দিনে জনস্রোত ছিল কমলাপুর রেলস্টেশনমুখী। সকাল থেকেই স্টেশন প্রাঙ্গণের ২০টি কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায় মূল প্রাঙ্গণ থেকে অনেক দূর পর্যন্ত। একতা ট্রেনের চারটি টিকিট পেতে আগের রাত ১২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন রফিকুল ইসলাম বাবুল। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বাবুল গতকাল বিকেল ৩টায় বলেন, ‘টিকিট পাইনি। এসি টিকিট নেই, শোভন চেয়ারও নেই।’

ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-নোয়াখালী রেলপথের সাতটি ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বিকেলে সেখানে প্রচণ্ড ভিড় চোখে পড়ে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের চট্টলা এক্সপ্রেসের ৪৮১টি টিকিট দুপুরেই শেষ হয়ে যায়। ওই ট্রেনে বিশেষ কোটায় কোনো টিকিট নেই। বনানী রেলস্টেশনে হাওর এক্সপ্রেসের একটি টিকিটের জন্য অপেক্ষারত সবুজ মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে দাঁড়িয়ে বিকেলে টিকিট পেলাম।’

মন্তব্য