kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

কৃষকদের দুরবস্থা দূর করতে বিএনপির ৯ দফা দাবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ মে, ২০১৯ ১৪:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকদের দুরবস্থা দূর করতে বিএনপির ৯ দফা দাবি

সরকারের ভুল নীতির কারণে কৃষিতে তার প্রতিফলন ঘটেছে- এমন অভিযোগ করে কৃষকদের দুরবস্থা দূর করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে জোর দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আজ শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। 

দাবিগুলো হলো-
১. কৃষকদের উৎপাদিত ধানের বিপরীতে সরকার ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী কৃষককে কমপক্ষে ৩ মাসের জন্য সমপরিমাণ টাকা বিনা সুদে প্রদান করা। যেমন- কোনো ক্ষুদ্র চাষি ৫০ মন ধান উৎপাদন করলে তাকে ৫০ মন ধানের বিপরীতে ৫৬ হাজার টাকা ধার দেওয়া। ৩ মাস পর কৃষক তার ধান বিক্রি করে ধার পরিশোধ করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তদারকীর মাধ্যমে সঠিকভাবে ক্ষুদ্র চাষিকে চিহ্নিত করে এ কাজ করতে পারে সরকার। এতে কৃষকরা বর্তমান অবস্থা হতে পরিত্রাণ পাবে।

২. সরকারি পর্যায়ের ধান-চাল গুদামজাত করণের ক্ষমতা প্রায় ২১.৮ লাখ মেট্রিন টন। এ ধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে বেশি পরিমাণে সরকারকে ধান ক্রয় করতে হবে। কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বেসরকারি গুদাম ভাড়া করে সেখানে ধান চাল সংগ্রহ করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির (সোশ্যাল সেফটিনেট প্রোগ্রাম) আওতা বাড়িয়ে অধিক পরিমাণ চাল বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যেন কৃষকের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সদ্ব্যবহার করা যায়।

৩. কৃষকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান ক্রয়ের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করছি। যা দিয়ে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ লাখ মেট্রিন টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ বা ক্রয় করতে পারে।

৪. কৃষকদের হয়রানি কমিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান বা চাল কিনতে হবে।

৫. প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র কৃষকরা উৎপাদন মৌসুমে অর্থের প্রয়োজনে তার ধান সস্তায় বিক্রি করে এবং কিছু দিন পর আবার নিজে বেশি দামে ক্রয় করে বাজার থেকে চাল কিনে খায়। সে কারণে প্রান্তিক চাষি ও ক্ষেত মজুরদের জন্য বিশেষ সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬. ধান-চাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে অসৎ কর্মকর্তাদের জড়িত করা যাবে না এবং অসৎ কর্মকর্তাদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭. সরকারের দলীয়করণের কারণে খাদ্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল কিনতে ৩ থেকে ৫ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছে, যা পত্রিকায় এসেছে (প্রথম আলো-২২.৫.২০১৯)। দলীয় নেতা-কর্মীদের পকেট ভারি করার জন্য তাদের ধান কেনার অনুমতি দিয়ে সরকার কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

৮. দেশে ধান উৎপাদন সম্পর্কে সরকার মিথ্যাচার করছে। সরকার বলছে, দেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন, অথচ প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ লাখ মেট্রিন টন চাল আমদানি করছে। সরকার জনগণের সাথে মিথ্যাচার করে আসল সত্যকে আড়াল করছে।

৯. মৌসুমের আগেই ধান সংগ্রহ মূল্য ঘোষণা করা এবং সংগ্রহ মূল্য অবশ্যই উৎপাদন খরচের চেয়ে যৌক্তিক পরিমাণ বেশি হতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা