kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মিটফোর্ড এলাকায় র‌্যাবের অভিযান

নকল ও স্যাম্পল ওষুধ কোটি টাকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মে, ২০১৯ ১২:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নকল ও স্যাম্পল ওষুধ কোটি টাকার

পুরান ঢাকার বাবুবাজারের মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় রয়েছে ওষুধের কয়েকটি মার্কেট। যেখানে বেশির ভাগ ফার্মেসিতে পাওয়া গেছে শুধু ‘ফিজিশিয়ান স্যাম্পল’, যা দোকানে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। দেদার বিক্রি করা এসব ওষুধ আবার দোকানিরা রাখছে নিজেদের গুদামে। বাড়ির খাটের নিচেও পাওয়া গেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নকল ও বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ। কোনো কোনো ফার্মেসিতে পাওয়া গেছে নকল ওষুধ। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ওষুধ জব্দ করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নকল ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ রাখায় ১৩টি ফার্মেসিকে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এ ছাড়া চারটি ফার্মেসি সিলগালা করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত র‌্যাব-১০ ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান ও র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করে নকল ভেজাল ওষুধ নির্মূল করা হবে।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘ওষুধের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও ব্যবসায়ীরা নকল থেকে দূরে থাকতে পারছে না। বিভিন্ন অভিযানের পাশাপাশি যদি সচেতনতা বৃদ্ধি না পায় তাহলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায় পুরান ঢাকার বাবুবাজার আলী মিয়া চেয়ারম্যান প্লাজায় দেশ ড্রাগ হাউসে। এ দোকানের বেশির ভাগ ওষুধই নকল। এ ছাড়া দোকানে পাওয়া যায় একাধিক বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ। যে ওষুধগুলো চিকিৎসকদের পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করার কথা। পরে ওষুধের মান সম্পর্কে আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। ভেজাল ও নিষিদ্ধ ওষুধ রাখায় ‘দেশ ড্রাগ’ এর মালিক খোরশেদকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর একই মার্কেটের সেবা মেডিক্যাল এজেন্সিতে গিয়ে নকল ওষুধ পাওয়া যায়। দোকানটিকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া খান মেডিসিন মার্কেটের ফারাজ মেডিসিনকে দেড় লাখ টাকা, এসডি কেমিক্যালসকে ৭৫ হাজার টাকা, আলী মেডিসিন মার্কেটের মিতু কেমিক্যালসকে দেড় লাখ টাকা, মিটফোর্ড টাওয়ার মার্কেটের সাদিয়া এন্টারপ্রাইজকে চার লাখ টাকা, একই মার্কেটের ২৪ নম্বর দোকানকে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং ছয় মাসের জেল দেওয়া হয়।

র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মিটফোর্ড টাওয়ারের মেসার্স মিলা ড্রাগ হাউসকে নকল ও মেয়াদহীন ওষুধ রাখায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সর্দার মার্কেটের ফার্মা ভিটের মালিক পাভেল বর্মণকে এক বছরের জেল দেওয়া হয়। কাজী রিয়াজ উদ্দিন রোডের ৩৮/১ নম্বর দোকান মালিক শাকিল মাহমুদকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং দুই বছরের জেল দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা